Ads Area

advertise

সূর্যগ্রহণের আদ্যোপান্ত

0

 

সূর্যগ্রহণের আদ্যোপান্ত ও অন্যান্য:: (৫০+টি টপিক)

[বিস্তারিত]

 

সূর্যগ্রহণ তো হয়ে গেল। সেই উপলক্ষে পুরোনো লেখাটা পূরণ করলাম। ইনফোরমেটিভ করার চেষ্টা করেছি।বড় পোস্ট বাট ধৈর্য্য নিয়ে পড়লে নতুন অনেক কিছু/পুরোনো জিনিসই আরো ক্লিয়ারলি জানা যাবে আশা করি।

(এর আগে সূর্যগ্রহণের সময় এই লেখাটা লেখেছিলাম।দুর্ভাগ্যবশত পাবলিশ করার পূর্বেই কেটে গেছিলো তা অনেকেই জানেন।)


পোস্টে যা যা জানব→

  1.  সূর্যগ্রহণ কী?

  2.  চন্দ্রগ্রহণ কেন হয়?

  3.  চাঁদ এত ছোট হয়েও তা সূর্যকে ঢেকে ফেলে কীভাবে?

  4.  পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ কীভাবে হয়?

  5. আংশিক চন্দ্রগ্রহন কীভাবে হয়?

  6.  কেন গ্রহণ বাড়ে কমে?

  7. গ্রহণের প্রকারভেদ কী কী?

  8. সূর্যগ্রহণের স্থিতিকাল কী কী বিষয় দ্বারা প্রভাবিত?

  9.  The Baily's Beads /বেইলির হার কী?

  10. হীরকাঙ্গুরী প্রক্রিয়া(The Diamond Ring Effect) কী?

  11. অতিক্রমণ কী?

  12.  পরবর্তী গ্রহণগুলো কবে কবে হবে?

  13.  ভবিষ্যতে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ miss করতে হবে কেন?

  14.  সোলার এক্লিপ্স দ্বারা গ্রহন আন্দাজ

  15.  কীভাবে সূর্যগ্রহণ দেখা উচিত?

  16. সূর্যগ্রহণ সরাসরি দেখা ক্ষতিকর কেন?

  17. সাধারণভাবে সূর্যের দিকে তাকানোর সাথে পার্থক্য কী?

  18.  চন্দ্রগ্রহণ সরাসরি দেখা ক্ষতিকর নয় কেন?

  19. অমাবস্যা ও পূর্ণিমা কী? (সংক্ষেপে)

  20. প্রতি অমাবস্যায় কেন সূর্যগ্রহণ ঘটে না?-

  21. প্রতি পূর্ণিমায় কেন চন্দ্রগ্রহণ ঘটে না?-

  22.  অমাবস্যায় কেন শুধু সূর্যগ্রহণ ঘটে?

  23.  পূর্ণিমায় কেন শুধু চন্দ্রগ্রহন ঘটে?

  24. সূর্যগ্রহণ যেভাবে ঘটে-

  25. প্রচ্ছায়া (Umbra) এবং পূর্ণ সূর্যগ্রহন 

  26.  উপচ্ছায়া (Penumbra) এবং আংশিক সূর্যগ্রহন

  27. প্রচ্ছায়া ও উপচ্ছায়া  সৃষ্টি ব্যাখ্যা

  28. (Antumbra)বিপরীত প্রচ্ছায়া ও বলয় গ্রাস সূর্যগ্রহণ 

  29.  বলয় গ্রাস ব্যাখ্যা+

  30.  হাইব্রিড সূর্যগ্রহন 

  31. (পূর্ণ+বলয়+আংশিক)

  32.  Path of totality/Anuality কী?

  33. দূরত্বের সাথে গ্রহণের সম্পর্ক:

  34.  সূর্যগ্রহন কেন দিনেই কেবল ঘটে?

  35.  পূর্ণ সূর্যগ্রহণকে বলয় গ্রাস আকারে দেখা সম্ভব কীভাবে?

  36.  পূর্ণগ্রাস কেন এত কম অঞ্চলে হয় এবং কেন এত রেয়ার?

  37.  পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের স্থায়িত্ব একেকসময় একেকরকম হয়  কেন? কখনো কম, কখনো বেশি কেন?

  38.  ছায়ার পার্থক্য কীভাবে পূর্ণগ্রাস ও বলয়গ্রাস গ্রহণ সৃষ্টি করে?

  39. বলয়গ্রাস কখনো কয়েকটি অঞ্চলগুলোতে বা কখনো অনেকগুলো অঞ্চলগুলোতে  দৃশ্যমান  হয় কেন?

  40. বলয়গ্রাসের আকৃতি দেখে কী কী নির্ণয় করা যেতে পারে?

  41.  Antrumbra কেন সবসময় গঠিত হয়না?

  42. কেন আন্টামব্রার দিকে এগিয়ে গেলে বলয়গ্রাস দেখা যায়?

  43. কেন একেকসময় একেক গ্রহণ হয়?

  44.  বিভিন্ন জাতিতে বিশ্বাস

  45.  কুসংস্কার।

  46.  সূর্য ও চাঁদ থেকে পৃৃথিবীর  গ্রহণগুলো কেমন মনে হবে?

  47.  চন্দ্রগ্রহণ কেন শুধু রাতেই হয়?

  48.  গ্রহণের বিভিন্ন দশা

  49. চন্দ্রগ্রহণ বেশিক্ষণ স্থায়ী কেন হয়?

  50.  সূর্যগ্রহণ কম স্থায়ী কেন?

  51. পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ কেন এত কম সময় হয়,আংশিকগ্রাস বেশি কেন?

  52. অন্যদেশে পূর্ণগ্রাস/বলয়গ্রাস  হলে আমরা 

  53. কেন আংশিক গ্রাস দেখবো?

  54.  সারোস চক্র

  55. কীভাবে সূর্যগ্রহণের ভবিষ্যদ্বাণী দেন বিজ্ঞানীরা

  56. বিভিন্ন প্রকার চন্দ্রগ্রহনের ব্যাখ্যা

  57.  অন্যান্য গ্রহে গ্রহণ।

  58.  সূর্যগ্রহণ কেন চন্দ্রগ্রহণের চেয়ে বেশি হয় তুলনামূলকভাবে?




[বুঝানোর প্রয়োজনে কিছু কথা বারবার আনতে হয়েছে।]



১। সূর্যগ্রহণঃ-



যদি কোনো মহাকাশীয় বস্তুকে দেখার সময়, যদি সে মহাকাশীয় বস্তুটি অপর একটি মহাকাশীয় বস্তুর আড়ালে চলে যায়, তখন যেটি আড়ালে ডেকে গেল তার গ্রহণ সংঘটিত হলো।যে শব্দটির শেষে গ্রহণ থাকবে তার গ্রহণ ধরে নিতে হবে।সূর্যগ্রহণ মানে সূর্যকে গ্রহণ বা সূর্যকে গ্রহণ করা হয়েছে।


এক্ষেত্রে একটি মহাকাশীয় বস্তুর সম্পূর্ণ বা আংশিক অংশ আড়ালে চলে যেতে পারে বা গ্রহন হতে পারে। যখন একটি মহাকাশীয় বস্তু(যেমন ধরেন সূর্য) সম্পূর্ণভাবে, অপর কোনো  মহাকাশীয় বস্তুর(যেমন ধরেন চাঁদ) সম্পূর্ণ আড়ালে চলে যায়, তখন তৃতীয় কোনো মহাকাশীয় বস্তু (যেমন ধরেন পৃথিবী)থেকে তাকে পূর্ণগ্রাস বলা হয়। একইভাবে যদি মহাকাশীয় বস্তুটি যদি আংশিকভাবে আড়ালে চলে যায়, তখন তাকে আংশিক গ্রাস বা খণ্ডগ্রাস বলা হয়।


 🎞চিত্র-১


গ্রহণের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হয় তৃতীয় একটি মহাকাশীয় বস্তু থেকে। যেমন সূর্য, পৃথিবী এবং চন্দ্র নিয়ে যে গ্রহণ সংঘটিত হয়, তা পর্যবেক্ষণ করা হয় পৃথিবী থেকে। চন্দ্র, সূর্য, ও পৃথিবী নিয়েই শুধু গ্রহণের বিষয়টি ঘটে না। অন্যান্য গ্রহেও গ্রহণ হয়।


 

সৌরজগতে সূর্যকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে পৃথিবী, আবার পৃথিবীকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে চন্দ্র। এই আবর্তন চলার সময় কখনো কখনো সূর্য, পৃথিবী এবং চন্দ্র একই সরল রেখাতে(পূর্ণ) বা প্রায় একই সরল রেখায় (আংশিক)অবস্থান নেয়। 

যেমন- স্কুলে বা প্যারেড গ্রাউন্ডে ধরেন সমান উচ্চতার ও বডির সবাই যদি একই লাইনে সামনে পেছনে দাঁড়াই তবে কি সামনে যে দাঁড়াবে সে কি তার পরের জনকে ঢেকে দিবে না?সামনে পেছনে যদি সবাই সমান উচ্চতার ও সাইজের হয় এবং সবাই যদি লাইন সোজা করে দাঁড়ায় তবে সবার সামনের জন কিন্তু পেছনের কাউকে আর দেখতে পারে না(যদি আপনি সবার সামনের জনের সামনে গিয়ে তার দিকে তাকিয়ে সরলরেখায় দাঁড়িয়ে তাকান তবে সামনের জনের জন্যে পেছনের জনকে দেখতে পাবেন না।)


ধরেন,ছলু মলু এরা সমান উচ্চতার এবং সমান বডি সাইজ।

ছলু,মলু স্কুলের এসেম্বলি তে সামনে পেছনে একদম সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছে,এবং আপনার দিকে তাকিয়ে আছে।আর আপনি তাদের দিকে তাকিয়ে তাদের সামনে সরলরেখায় দাঁড়ালেন।


আপনি  তাদের দুজনের সামনে দাঁড়িয়েছেন। তারমানে আপনি সহ তারা একই সরল রেখায় দাঁড়িয়েছেন। ছলু সবার সামনে,তারপর কলু।

এখন ছলুর জন্যে কিন্তু কলুকে দেখতে পারবেন না আপনি। কারণ ছলুর শরীর মলুর শরীরকে ডেকে দিয়েছে বা গ্রহণ করেছে।এখন মলু যদি লাইনে হালকা বাঁকা হয়ে দাঁড়ায় মানে পরিপূর্ণভাবে সরলরেখা বজায় রেখে না দাঁড়িয়ে সরলরেখার বাইরে তার শরীরের কিছু অংশ বের করে রাখে তবে কিন্তু ছলু মলুকে পুরোপুরি ডাকতে পারল না। 

আর এ কারণে আপনি ছলু্র পেছনে দাঁড়ানো মলুর শরীরের কিছু অংশ দেখতে পারবেন।

বা আপনি যদি একটু বাঁকা হয়ে দাঁড়ান তাহলেও আপনি ছলুর পেছনে দাঁড়ানো মলুর শরীরের কিছু অংশ দেখতে পারবেন। ।কিন্তু মলুর শরীরের কিছু অংশ ছলুর শরীরের আড়ালে থাকায় মলুর শরীরের সে অংশটুকু দেখতে পারবেন না।এটাই মলুর শরীরকে আংশিক ঢেকে দেওয়া। তারমানে  চাঁদ যখন  সূর্যকে ঢেকে দিতে উপনীত হয় তখন সবসময় চাঁদ ও সূর্য সবসময় ১০০% বা পরিপূর্ণভাবে একই সরলরেখায় থাকে না।তখন চাঁদ সূর্যের কিছু অংশকে কেবল ঢাকতে পারে বাট সূর্যের পুরো অংশকে তখন ঢাকতে পারে না।এটাই আংশিক সূর্যগ্রহণ। আর যদি চাঁদ সূর্যের পুরো অংশটা ঢেকে দিতে সক্ষম হয় তখন তাকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ বলে।এসময় চাঁদ ও সূর্য প্রায় একই সরলরেখায় অবস্থান করে।ফলে চাঁদের কারণে পেছনের সূর্যকে দেখা যায়না।

(সামনে আরো বিস্তারিত বলতেছি পূর্ণ ও আংশিক গ্রহণ নিয়ে)


তারমানে,সংক্ষেপে চন্দ্র যখন পৃথিবী ও সূর্যের মাঝে একই লাইনে বা প্রায় একই লাইনে চলে আসে তখন চন্দ্র দ্বারা সূর্য আড়াল হয়ে যায়, তখনই সূর্যগ্রহণ হয়। এটি সব সময় ( New moon)অমাবস্যার দিনেই হয়। প্রশ্ন হতে পারে প্রতি অমাবস্যায় হয় না কেন?কেন সবসময় অমাবস্যাতেই সূর্যগ্রহণ হয়?

আবার কেন সব অমাবস্যায় হয় না?

সামনে আসছে বিস্তারিত।


এই আবর্তনের সূত্রে, যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে চন্দ্র অবস্থান নেয়, তখন পৃথিবীপৃষ্ঠের পর্যবেক্ষকের দর্শন-সাপেক্ষে সূর্য চন্দ্রের পেছনে আড়ালে চলে যায় এবং তখন সূর্য গ্রহণ ঘটে।



এই সময় সূর্যের আলো চাঁদের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে চাঁদের ছায়া পৃথিবীর উপর পড়ে। সূর্যের আকার অনেক বড় বলে সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদ অনেকসময় সূর্যকে পুরোপুরি ঢাকতে পারে না। বিশেষ করে চাঁদের চারপাশ দিয়ে সূর্যের ছটামণ্ডল ও বর্ণমণ্ডল উজ্জ্বলভাবে দেখা যায়। এই অবস্থায় সূর্যের এ গ্রহণকে বলয়গ্রাস বলা হয়।

(বিস্তারিত সামনে)


🎞চিত্র-২

আমরা জানি, পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরে আর পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে চাঁদ। এভাবে ঘুরতে ঘুরতে মাঝেমধ্যেই পৃথিবী, সূর্য ও চাঁদ একই সরলরেখায় এসে পড়ে(যেভাবে স্কুলের এসেম্বলিতে একই লাইনে সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন)।


সূর্যের দূরত্ব অনেক বেশি হওয়ায় সে সর্বদাই এই সরলরেখার একপ্রান্তে পড়ে থাকে। কিন্তু সরলরেখার অন্যপ্রান্তে বা শেষপ্রান্তে কে থাকবে (চাঁদ নাকি পৃথিবী?), তার উপরেই নির্ভর করছে সূর্যগ্রহণ হবে, নাকি চন্দ্রগ্রহণ হবে।


যদি সরলরেখার অন্য প্রান্তে পৃথিবী থাকে, তাহলে চাঁদ এসে সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে চাঁদের যে পিঠটা সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে, সে পিঠে সূর্যের আলো পড়ে।বিপরীত পাশে মানে আমাদের দিকে যে অংশটা মুখ করে থাকে সে অংশে সূর্যের আলো পড়তে পারেনি বা চাঁদের সে অংশটি অন্ধকারাচ্ছন্ন বা চাঁদের সেদিন অমাবস্যা। 

🎞চিত্র-৩


আমরা জানি, কোনো বস্তুর উপরে এক পাশ থেকে আলো ফেললে বিপরীত পাশে ঐ বস্তুর ছায়া পড়ে। সুতরাং চাঁদের যে পিঠটা পৃথিবীর দিকে থাকে, সে পিঠের ছায়া পৃথিবীর উপরে পড়ে। ফলে চাঁদের ছায়া পৃথিবীর যে স্থানে পড়ে, সেই স্থান থেকে সূর্যকে দেখা যায় না। অর্থাৎ দিনের বেলা কিছু সময়ের জন্য চাঁদ এসে সূর্যকে ঢেকে ফেলে। এটাকেই বলে সূর্যগ্রহণ। সহজ ভাষায়, সূর্যগ্রহণ মানে পৃথিবীপৃষ্ঠের উপরে চাঁদের ছায়া। চাঁদ যখন সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলে তখন পূর্ণগ্রহণ হয়, আর সূর্যের কিছু অংশ ঢাকলে হয় আংশিক গ্রহণ। আংশিক গ্রহণ প্রায়ই দেখা যায়, কিন্তু পূর্ণগ্রহণ খুব কম লোকই দেখতে পায়। কারণ চাঁদের ছায়া একটা নির্দিষ্ট সময়ে পৃথিবীর একটা নির্দিষ্ট অংশের উপরেই পড়ে। সে ছায়ার অংশটাকে আবার তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে।( Umbra)আম্ব্রা (গাঢ় ছায়া/প্রচ্ছায়া), panumbraপ্যানআম্ব্রা (হালকা ছায়া,উপচ্ছায়া ),Antumbra(বিপরীত প্রচ্ছায়া)।



 আম্ব্রাল রিজিওন থেকে পূর্ণগ্রহণ, প্যানআম্ব্রাল রিজিওন থেকে আংশিক গ্রহণ দেখা যায় আর আন্টামব্রাল রিজিওন থেকে বলয় গ্রহণ দেখা যায়।



🎞চিত্র-৪

(আম্ব্রা,প্যানাম্ব্রা,আন্টামব্রা নিয়ে সামনে আসছে আলোচনা)।



২। চাঁদ এত ছোট হয়েও তা সূর্যকে ঢেকে ফেলে কীভাবে?-



চাঁদ সূর্যের চেয়ে প্রায় ৪০০গুণ বড় আবার পৃথিবী থেকে সূর্য চাঁদের চেয়ে প্রায় ৪০০গুণ দূরে অবস্থিত।অর্থাৎ চাঁদ ও সূর্যের মাঝে দূরত্ব এমনভাবে তৈরি যে সূর্য যতই বড় হোক বা চাঁদ যতই ছোট হোক দুটোকে পৃথিবী থেকে সমান দেখা যায়। সূর্যের আকার আর দূরত্বে চাঁদের সাপেক্ষে কাটাকাটি হয়ে পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে সূর্যকে ঠিক চাঁদের মতোই আকৃতির দেখায়।


আর দূরের জিনিস বড় হলেও ছোট দেখাবে সেটাই ত স্বাভাবিক আর

কাছের কোনোকিছু দিয়ে দূরের কিছু ঢেকে দেওয়া যেতেই পারে।



🎞চিত্র-৬


৩।প্রকারভেদ:

পৃথিবী ও সূর্যের মাঝে চাঁদের সরাসরি বা আংশিক অবস্থান এবং পৃথিবীর কোন অঞ্চল থেকে ঘটনাটি দেখা হচ্ছে তার উপর সূর্যগ্রহণের প্রকার নির্ভর করে।

সূর্যগ্রহণ চার প্রকার হয়ে থাকে.

1.আংশিক গ্রহণ যা সূর্যের কিছু অংশ ঢেকে ফেলে, 2.পূর্ণ গ্রহণ হলে কিছু সময়ের জন্য সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলে,

3.বলয় গ্রহণ হলে কিছু সময়ের জন্য চন্দ্র সূর্যের মাঝে চলে যায়। এ সময় সূর্যকে চারিদিকে রিং বা আংটির মতো দেখায় এবং আরেক ধরনের গ্রহণের নাম -

4.হাইব্রিড গ্রহণ- এটা হলে পূর্ণ গ্রহণ ও বলয় গ্রহণের সমন্বয়।তবে সাথে আংশিক গ্রহণও দেখা যায়।


আর চন্দ্রগ্রহণ ৫প্রকার-


1.Penumbral Lunar Eclipse

2.Total Penumbral Lunar Eclipse

3.Partial Lunar Eclipse

4.Total lunar eclipse

5.Central lunar eclipse

এই ৫প্রকার নিয়ে সামনের কোনো পোস্টে আলোচনা করবো।


৪। গ্রহণের দশা:

গ্রহণের মোট ৫টি দশা আছে।


First contact—যখন চাঁদ সূর্যকে একদম প্রথম টাচ করে ঠিক সেই মুহূর্তটাকেই বলে First 


Second contact—চাঁদ সূর্যকে প্রায় গ্রাস করে ফেলেছে বা সর্বোচ্চ গ্রহণে পৌঁছে যাবে যাবে বাট যায়নি এখনো সে অবস্থাই Second contact.

এমন অবস্থায় যখন চাঁদের উঁচুনিচু অংশের পাশ দিয়ে পেছন থেকে সূর্যের আলো আসতে থাকে যাকে দেখতে খন্ড খন্ড আলোককণা গুচ্ছ / মুক্তার মালা / চিকন গোলাকার আলোকরেখার মত দেখায়।একেই Baily's Beads বলে। (beadমানে মালা,পুঁতি)

এ বেইলিস বিডস শেষ হওয়ার সময় সর্বশেষে ডায়মন্ড রিং ইফেক্ট দেখা যায়।চাঁদের এক পাশ দিয়ে সূর্যের একটু আলো এমনভাবে বের হয় যা দেখলে আঙ্গুলের উপর হীরার আংটির মত মনে হয়।বলয়গ্রাস ও পূর্ণগ্রাসে এটা দেখা যেতে পারে।


Totality—

চাঁদ দ্বারা সূর্য পুরোপুরি ঢেকে যায় বা সর্বোচ্চ গ্রহণ হয়।তখন শুধু চাঁদের চারপাশ দিয়ে সূর্যের মুকুটের মত হালকা আলোকছটা নির্গত হতে থাকে যাজে সৌরমুকুট বা সোলার করোনা বলে(করোনাভাইরাস নয় আবার)।পূর্ণগ্রাসের সময় এ দশাটা দেখা যায়।


করোনাভাইরাসের উপরের স্পাইকগুলো মিলে সৌরমুকুটের মত দেখায় বলে এ ভাইরাসকে করোনাভাইরাস নাম দিয়েছে।


Third contact—এটা ফার্স্ট কন্টাক্টের উল্টো দশা।এসময় পূর্ণগ্রাস বা সর্বোচ্চ গ্রাস হওয়া সূর্য গ্রহণ থেকে বের হতে থাকে।এ দশাতেই গ্রহণ থেকে বের হতে উপনীত সূর্যের প্রথম আলোকছটা(চাঁদের পেছন থেকে)দৃশ্যমান হয়।তখন চাঁদের ছায়া অবজারভার থেকে সরে যেতে থাকে।এসময় যেহেতু নতুন করে সূর্যের মুখ দেখা যাচ্ছে তাই গ্রহণ থেকে বের হওয়ার বের হওয়ার প্রাথমিক মুহূর্তে ডায়মন্ড রিং ইফেক্ট এবং তারপর বেইলিস বিডস দেখা যেতে পারে।


Fourth contact—

এসময়টা হলো গ্রহণের সর্বশেষ মুহূর্ত যখন চাঁদ সূর্যকে গ্রহণ মুক্ত করে ফেলে।এ দশাতেই গ্রহণ মুক্তি ঘটে।এরপর সূর্যকে আবার আগের মত পূর্ণ সূর্য আকারে দৃশ্যমান হয়(যদি সূর্যের সামনে মেঘ না থাকে) 


৫। অমাবস্যায় কেন শুধু সূর্যগ্রহণ ঘটে?


অমাবস্যায় কেবলমাত্র সূর্যগ্রহন ঘটে। কারণ কেবল অমাবস্যায় সূর্য ও পৃৃথিবীর  মাঝে চাঁদ অবস্থান নেয়। আর সূর্য ও পৃৃথিবীর মাঝে চাঁদের অবস্থান সূর্যগ্রহন হওয়ার এক নম্বর শর্ত।তাই অমাবস্যাতেই সূর্যগ্রহন ঘটে।অমাবস্যায় সূর্য ও পৃৃথিবীর মাঝে চাঁদ থাকে। ফলে পৃৃথিবীর দিকে চাঁদের যে অংশটা থাকে সে অংশ সূর্যের আলো দ্বারা আলোকিত না হওয়ায় সে অংশটা অন্ধকার রয়ে যায় যা অমাবস্যা নামে পরিচিত।তবে সকল অমাবস্যায় আবার সূর্যগ্রহন ঘটবে না।কেন ঘটবে না তা নিচে আলোচিত হয়েছে।

তো,যাইহোক সকল সূর্যগ্রহনই অমাবস্যার সময় ঘটে থাকে কিন্তু সকল অমাবস্যায় সূর্যগ্রহন হয় না।


৬। প্রতি অমাবস্যায় কেন সূর্যগ্রহণ ঘটে না?-


কথা হচ্ছে, চাঁদ তো ২৯ দিন পরপর পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে। সেইসাথে পৃথিবীও চাঁদকে সাথে নিয়ে সূর্যের চারপাশে ঘুরছে। সে হিসেবে তো প্রতি ২৯ দিন পরপর সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ একই সরলরেখায় আসার কথা। তাই না? তাহলে প্রতিমাসেই গ্রহণ হয় না কেন?

অমাবস্যার সময় ত পৃৃথিবী ও সূর্যের মাঝে চাঁদ থাকে এবং পূর্ণিমার সময় ত চাঁদ ও সূর্যের মাঝে পৃথিবী থাকে তাহলে তো অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় চাঁদ,সূর্য, পৃথিবী একই সরলে রেখায় থাকে বলে মনে হচ্ছে তাই না?

সকল অমাবস্যার সময় ত চাঁদ দ্বারা সূর্যকে ঢেকে দেওয়ার কথা বা প্রতি অমাবস্যায় সূর্যগ্রহণ হওয়ার কথা তবে কেন প্রতি অমাবস্যায় সূর্যগ্রহণ হয় না?

আবার পূর্ণিমার সময় তো চাঁদ,পৃৃথিবী,সূর্য একই সরলরেখায় থাকে বলে মনে হচ্ছে।তাহলে প্রতি পূর্ণিমাতে কেন তবে পৃথিবী চাঁদকে ঢেকে দেয় না বা প্রতি পূর্ণিমাতে কেন চন্দ্রগ্রহণ হয় না?


উত্তর- 

প্রতি  পূর্ণিমাতেই চন্দ্রগ্রহণ না হবার কারণ হচ্ছে, পৃথিবী থেকে দেখতে দিগন্তের উপরে-নিচে হিসেব করলে আমরা চাঁদ ও সূর্যকে পৃথিবীর সাথে একই রেখায় দেখবো। কিন্তু চাঁদ ঐ সময়টিতে তথা পূর্ণিমার সময় একটু উত্তরে বা দক্ষিণে থাকতে পারে। মানে একদম সরল রেখা বরাবর এই দুই সময়ে থাকে না।এটাই ঘটে অধিকাংশ সময়।

কিন্তু যখনই একটু উত্তর-দক্ষিণে না থেকে বরাবরে অবস্থান করে তখনই পূর্ণিমা পরিণত হয় চন্দ্রগ্রহণে এবং অমাবস্যা পরিণত হয় সূর্যগ্রহণে।

এই দুই পজিশনে চাঁদের অমাবস্যা হচ্ছে।এখানে চাঁদটা কিন্তু সরাসরি সূর্য ও পৃৃথিবীর মাঝে নয় বরং একটু নিচে বা একটু উপরে।ফলে চাঁদের ছায়া সরাসরি পৃৃথিবীর উপর পড়েনি। ফলে কোনো সূর্যগ্রহণ হয়নি।

চাঁদের কক্ষপথ পৃথিবীর সাপেক্ষে ৫ ডিগ্রি কৌণিক। ফলে পৃথিবী ও সূর্য সর্বদা একই সরলরেখায় থাকলেও চাঁদ কখনো সেই সরলরেখার উপরে থাকে, আবার কখনো নিচে থাকে। এ কারণেই প্রতি মাসে গ্রহণ হয় না।



পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদের কক্ষপথ আর সূর্যকে ঘিরে পৃথিবীর কক্ষপথ যদি একই সমতলে থাকত তবে প্রতিমাসের প্রতি অমাবস্যাতেই চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে অবস্থান করত এবং সূর্যগ্রহণ ঘটতো। কিন্তু চাঁদের কক্ষপথ পৃথিবীর কক্ষপথের থেকে ৫ ডিগ্রী হেলে থাকে বলেই চাঁদ সাধারণত পৃথিবী ও সূর্যের  সরলরেখা ও পৃথিবীর ছায়ার কিছুটা ওপর বা নিচ দিয়ে চলে যায়। তাই শুধুমাত্র চন্দ্রপথ ও সৌরপথের ছেদবিন্দুর দুটি জায়গাতেই গ্রহণ সম্পন্ন হয়। তবে এক্ষেত্রে তখনই গ্রহণ ঘটবে যখন ছেদবিন্দু দুটির রেখা সূর্যের সোজাসুজি থাকবে।




চাঁদের কক্ষপথের অবস্থানের প্রেক্ষিতে নির্ভর করে সূর্যগ্রহণটি পূর্ণ নাকি আংশিক নাকি বলয় ঘটবে। চন্দ্রপথ সৌরপথের ওপর ৫ ডিগ্রী কোণে হেলে থাকে বলে কেবলমাত্র শুধু দুটি জায়গাতেই তারা পরস্পরকে ছেদ করে এবং সূর্যগ্রহণ ঘটে। পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদের কক্ষপথ আর সূর্যকে ঘিরে পৃথিবীর কক্ষপথ যদি একই সমতলে থাকতো তবে প্রতিমাসের প্রতি অমাবস্যাতেই চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে অবস্থান করত এবং সূর্যগ্রহণ ঘটতো।

চিত্র-২৩,২৪(চাঁদের কক্ষতলের ৫ডিগ্রি আনতি)


চিত্রে একই সমতলে চাঁদ পৃথিবী 

 কিন্তু চাঁদের কক্ষপথ পৃথিবীর কক্ষপথের থেকে প্রায় ৫ ডিগ্রী হেলে থাকে বলেই চাঁদ সাধারণত পৃথিবী ও সূর্যের রেখা ও পৃথিবীর ছায়ার কিছুটা ওপর বা নিচ দিয়ে চলে যায়। তাই শুধুমাত্র চন্দ্রপথ ও সৌরপথের ছেদবিন্দুর দুটি জায়গাতেই গ্রহণ সম্পন্ন হয়। তবে এক্ষেত্রে তখনই গ্রহণ ঘটবে যখন ছেদবিন্দু দুটির রেখা সূর্যের সোজাসুজি থাকবে।



সূর্যগ্রহণ ঘটে পৃথিবী ও সূর্যের মাঝে চাঁদ অবস্থান করায়। যদিও সূর্যের চেয়ে চাঁদ অপেক্ষাকৃত অনেক ছোট এবং সূর্য চাঁদের তুলনায় পৃথিবী থেকে চারশ গুণ বেশি দূরত্বে ও আকারেও প্রায় চারশ গুণ বড়। ফলে পৃথিবীর আকাশে চাঁদ ও সূর্যকে একই সমান দেখায়। ফলে চাঁদের ছায়া সূর্যকে পুরোপুরি আবৃত করে ফেলতে পারে এবং সূর্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। তবে চাঁদের কক্ষপথের অবস্থানের প্রেক্ষিতে নির্ভর করে সূর্যগ্রহণটি পূর্ণ নাকি আংশিক নাকি বলয় ঘটবে। চন্দ্রপথ সৌরপথের ওপর ৫ ডিগ্রী কোণে হেলে থাকে বলে কেবলমাত্র শুধু দুটি জায়গাতেই তারা পরস্পরকে ছেদ করে এবং সূর্যগ্রহণ ঘটে। পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদের কক্ষপথ আর সূর্যকে ঘিরে পৃথিবীর কক্ষপথ যদি একই সমতলে থাকতো তবে প্রতিমাসের প্রতি অমাবস্যাতেই চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে অবস্থান করত এবং সূর্যগ্রহণ ঘটতো। কিন্তু চাঁদের কক্ষপথ পৃথিবীর কক্ষপথের থেকে ৫ ডিগ্রী হেলে থাকে বলেই চাঁদ সাধারণত পৃথিবী ও সূর্যের রেখা ও পৃথিবীর ছায়ার কিছুটা ওপর বা নিচ দিয়ে চলে যায়। তাই শুধুমাত্র চন্দ্রপথ ও সৌরপথের ছেদবিন্দুর দুটি জায়গাতেই গ্রহণ সম্পন্ন হয়। তবে এক্ষেত্রে তখনই গ্রহণ ঘটবে যখন ছেদবিন্দু দুটির রেখা সূর্যের সোজাসুজি থাকবে।


৭। সূর্যগ্রহণ যেভাবে ঘটে

  

সূর্যগ্রহণ কীভাবে ঘটে বুঝতে চাওয়ার মানে চারপ্রকার সূর্যগ্রহণ হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া।


সূর্যগ্রহন বুঝতে চাইলে আমাদের ছায়া নিয়ে একটু গবেষণা করতে হবে।চলুন শুরু করি-

সূর্যের আলো পৃথিবীতে বাধা পেয়ে মহাকাশে যে কোনো বস্তুর উপর পৃথিবীর যে ছায়া পরে তা তিন রকমের। 

এক.প্রচ্ছায়া(Umbra)

দুই. উপচ্ছায়া(Penumbra)

তিন.বিপরীত প্রচ্ছায়া(Antumbra)


(২২)প্রচ্ছায়া (Umbra) এবং পূর্ণ সূর্যগ্রহন :


প্রচ্ছায়া জলি কোনো গ্রহ/উপগ্রহের বা কোনোকিছুর ছায়ার কেন্দ্রীয় গাঢ়, অন্ধকার অঞ্চল।


কোনো আলোক উৎসের সামনে অস্বচ্ছ বস্তু রাখলে যে ছায়া উৎপন্ন হয় তা নির্ভর করে আলোর উৎস, পর্দার দূরত্বের ওপর। এখন অস্বচ্ছ বস্তুর পিছনে একটি পর্দা রাখলে, আলোক উৎস যদি খুব ক্ষুদ্র আকারের অর্থাৎ বিন্দু উৎস হয় তাহলে ওই অস্বচ্ছ বস্তুর পিছনে পর্দায় যে ছায়া পড়ে তা গাঢ় অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়। এই ঘন কালো অঞ্চলের ছায়াকে প্রচ্ছায়া বলে। প্রচ্ছায়া অঞ্চল থেকে আলোক উৎসকে দেখা যায় না।নিচে দেখুন।



চিত্র-২৮


টর্চ লাইটটাকে সূর্য মনে করেন,মাঝখানের ফুটবলটা ধরুন পৃৃথিবী এবং ফুটবলের পেছনের সাদা পর্দাটা গোলাকৃতি পৃথিবীর একপার্শ্বের সমতল পৃষ্ঠ মনে করতে পারেন।

এবার টর্চটার আলো যখন ফুটবলের উপর পড়লো তখন কিন্তু সাদা পর্দার মাঝে দুইটা অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশ দেখা যাচ্ছে। মাঝখানের অন্ধকার অংশটা বেশি গাঢ় এবং চারপাশে ঝাপসা অন্ধকার।বেশি গাঢ় অন্ধকার অংশটাকে বলে  প্রচ্ছায়া(Umbra) এবং চারপাশের ঝাপসা গাঢ় অংশটা হলো উপচ্ছায়া(Penumbra)



 

চিত্র-২৯

সূর্যগ্রহনের সময় চাঁদের কিছু অংশ উপরের চিত্রের মত প্রচ্ছায়া সৃষ্টি করে এবং কিছু অংশে উপচ্ছায়া সৃষ্টি হয়।


প্রচ্ছায়া অঞ্চলে যারা থাকে তারা সূর্যকে পুরোপুরি গ্রাস বা সূর্যের পূর্ণগ্রাস (Total Solar Eclipse)দেখতে পায় এবং উপচ্ছায়া অঞ্চলে বসবাসকারীরা সূর্যের  আংশিক গ্রাস দেখতে পায়।


প্রচ্ছায়া অঞ্চল থেকে আলোক উৎসকে দেখা যায়না। ফলে আলোক উৎস সে অঞ্চলে পুরোপুরি আড়ালে চলে যায়।

চিত্রে দেখেন ব্যক্তিটির মাথা প্রচ্ছায়া অঞ্চলে। ফলে সে ফুটবলের আড়ালে থাকা আলোক উৎস ফ্লাশ লাইটটাকে দেখতে পারতেছে না।শুধু সে তার সামনে ফুটবলটাকে দেখতেছে।

এখানে, সূর্যগ্রহনের সময়

ফুটবল=চাঁদ

ফ্লাশ লাইট=সূর্য

ব্যক্তি=পৃৃথিবী

ধরে নিতে পারেন



উপরের চিত্রে দেখেন আলোক উৎস বা চার্জার ফুটবলের আড়ালে চলে যাওয়ায় আলোক উৎস বা চার্জারকে দেখা যাচ্ছে না একদমই।


 

পূর্ণ সূর্যগ্রহণ তখনই ঘটে থাকে যখন সূর্য চাঁদ দ্বারা পুরোপুরি ঢেকে যায়। চিত্রে দেখানো হয়েছে।

 পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদ, পৃথিবী, সূর্য একই সরলরেখায় এবং সমতলে থাকে,, আংশিক গ্রাসের মত  উপরে নিচে বা একপাশে নয়


 পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী ও সূর্যের মাঝে চাঁদ তার উপবৃত্তাকার কক্ষপথের এমন স্থানে অবস্থান করে (অমবস্যার সময়) যখন চাঁদ ও পৃথিবীর ব্যবধান অপেক্ষাকৃত কম থাকে। 

পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময়, চাঁদ পৃথিবীর অপেক্ষাকৃত কাছে চলে আসে এবং চাঁদের অপেক্ষাকৃত ঘন ছায়া প্রচ্ছায়া হিসেবে পৃথিবীতে পতিত হয়।


 প্রচ্ছায়ার মাঝে অবস্থিত মানুষের কাছে তখন মনে হয় চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে রেখেছে – আর এটিই পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। তবে পূর্ন সূর্যগ্রহণ হলেও চাঁদের পৃষ্ঠ উঁচুনিচু হওয়ায় এবং চাঁদের সাইজ ছোট হওয়ায়  পূর্ণগ্রাস হলেও চাঁদের ফাঁকফোকর ভেদ করে  সূর্যের করোনা  বা সৌরমুকুট হালকা করে হলেও দেখা যায়।সূর্য ঢেকে গেলেও চাঁদের চারপাশ দিয়ে একটু একটু বিকিরণ হয়।


যাইহোক,প্রচ্ছায়ার বাইরেো আরো ছায়া আছে।চিত্রে খেয়াল করলে দেখা যাবে প্রচ্ছায়ার বাইরে কিছু অংশ রয়েছে, যেখানে সূর্য আংশিকভাবে চাঁদ দ্বারা আচ্ছাদিত, যা উপচ্ছায়া অঞ্চল নামে পরিচিত এবং তা প্রচ্ছায়ার তুলনায় আরও বেশি বিস্তৃতি নিয়ে পৃথিবীকে আচ্ছাদিত করে রাখে।





৮। উপচ্ছায়া (Penumbra) এবং আংশিক সূর্যগ্রহন:



সূর্যালোকে আলোকিত পৃথিবী বা অন্য কোনো বস্তুর মূল ছায়ার চারপাশে আংশিক ছায়ার যে অংশ দেখা যায় সে অঞ্চলটাকেই উপচ্ছায়া বলে। এ অঞ্চলে আংশিক গ্রহণ হয়।


আংশিক সূর্যগ্রহণ হলে চাঁদ সূর্য বরাবর সম্পূর্ণভাবে না গিয়ে তার কোন একটা অংশ কোন একটা অংশকে ঢেকে ফেলে। এই ঘটনাকে আংশিক সূর্যগ্রহণ বলে অভিহিত করা হয়।



সূর্যের চারদিকে পৃথিবী এবং পৃথিবীর চারদিকে চাঁদ ঘুরতে ঘুরতে কোন একটা সময় সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরল রেখায় চলে আসে। এই সময় যেহেতু চাঁদ -সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে চলে আসে তখন পৃথিবীর একটা নিদির্ষ্ট অঞ্চলে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হচ্ছে বলে মনেহয়। তবে সমগ্র পৃথিবীতে কিন্তু একইরকম সূর্য গ্রহণ হয় না। কোথাও পূর্ণ গ্রহণ, আবার কোথাও আংশিক গ্রহণ দেখায়।


পৃথিবীন অন্যত্র থেকে যদি চাঁদ সূর্যের আংশিক ঢেকে রাখে বলে প্রতীয়মান হয়  তবে সেখানে আংশিক সূর্যগ্রহণ সংঘটিত হয় ।

প্রচ্ছায়া অঞ্চলে পূর্ণগ্রাস এবং উপচ্ছায়া অঞ্চলে আংশিক গ্রাস দেখা যাবে।



কোনো আলোক উৎসের সামনে অস্বচ্ছ বস্তু রাখলে যে ছায়া উৎপন্ন হয় তা নির্ভর করে আলোর উৎস, পর্দার দূরত্বের ওপর। এখন অস্বচ্ছ বস্তুর পিছনে একটি পর্দা রাখলে, আলোক উৎস যদি বিস্তৃত বা বড় আকারের হয় তখন এই প্রচ্ছায়া বা গাঢ় অন্ধকার অংশের চারপাশে অপেক্ষাকৃত কম অন্ধকারাচ্ছন্ন অঞ্চলের সৃষ্টি হয়। একে উপচ্ছায়া বলে। বিন্দু আলোক উৎসের ক্ষেত্রে প্রচ্ছায়া এবং উপচ্ছায়া একই হয়। এই উপচ্ছায়া অঞ্চল থেকে আলোক উৎসের কিছু অংশ দেখা যায়। ফলে এই উপচ্ছায়া যে অঞ্চলে সৃষ্টি হয় সে অঞ্চল থেকে আপনি সূর্যের আংশিক গ্রাস (Partial Solar Eclipse) দেখবেন।


চিত্রে মাথাটা কিন্তু উপচ্ছায়া অঞ্চলে। ফলে সে অঞ্চল থেকে ফুটবলটার আড়ালে থাকা লাইট বাল্বকে ব্যক্তিটি ওরকম আংশিকভাবে দেখবেন





৯। প্রচ্ছায়া ও উপচ্ছায়া  সৃষ্টি ব্যাখ্যা:

বিস্তৃত আলোক উৎস এবং অস্বচ্ছ গোলাকার বস্তু (উৎস থেকে বড়) দ্বারা ছায়ার সৃষ্টি ব্যাখ্যা:



চিত্রে AB একটি বিস্তৃত গোলাকার আলোক উৎস এবং উৎসের সামনে উৎস থেকে বড় গোলাকার অস্বচ্ছ বস্তু CD। আলোক উৎসের A বিন্দু থেকে নির্গত আলোক রশ্মি অস্বচ্ছ বস্তুতে বাধা পেয়ে পর্দার EF অংশে ছায়ার সৃষ্টি করে। আবার উৎসের B বিন্দু থেকে নির্গত আলোক রশ্মি অস্বচ্ছ বস্তুতে বাধা পেয়ে পর্দার GH অংশে ছায়ার সৃষ্টি করে।

উৎসের কোনো অংশ থেকেই পর্দার EH অংশে আলো পৌঁছায় না। তাই এই অংশে ছায়াটি খুব গাঢ় অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়। এই সম্পূর্ণ অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশকে প্রচ্ছায়া বলে।

আবার GE অংশে( উৎসের উপরের দিকে) এবং HF অংশে (উৎসের নীচের দিকে)  আলো এসে পর্দায় পড়ে। ফলে GE এবং HF অংশে আংশিক আলোকিত থাকে। এই আংশিক আলোকিত অংশকে উপচ্ছায়া বলে। অর্থাৎ এই ক্ষেত্রে পর্দার মাঝখানে গোল অংশটা প্রচ্ছায়া এবং তার চারিদিকে গোলাকার উপচ্ছায়ার সৃষ্টি হয়। 



বিন্দু আলোক উৎসের সামনে অস্বচ্ছ গোলাকার বস্তু রাখলে কীভাবে প্রচ্ছায়ার সৃষ্টি হয় – ব্যাখ্যা-


চিত্রে O একটি বিন্দু আলোক উৎস এবং AB একটি অস্বচ্ছ গোলাকার বস্তু। বস্তুটি থেকে কিছু দূরে XY পর্দা রাখা আছে। উৎস O থেকে OA এবং OB রশ্মি AB বস্তুর ধার ঘেঁসে OAC এবং OBD পথে গিয়ে পর্দায় পড়েছে। AB অস্বচ্ছ বস্তুতে বাধা পেয়ে AOB ফানেল আকৃতি অংশের কোনো আলোক রশ্মিই পর্দায় পৌঁছাতে পারে না। ফলে পর্দার CD অংশটি আলো না পেয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন থেকে যায়। এই অংশটি হল AB বস্তুর ছায়া, একেই প্রচ্ছায়া বলে। 

কোনো বিন্দু আলোক উৎস কোনো উপচ্ছায়া সৃষ্টি করতে পারে না।তবে আলোক উৎসটি যদি বিস্তৃত হয় তবে তাতে প্রচ্ছায়া এবং উপচ্ছায়া উভয়ই সৃষ্টি হবে।



তাহলে প্রচ্ছায়া ও উপচ্ছায়া সংক্রান্ত তথ্যগুলো সংক্ষেপে:

(i) উপচ্ছায়া সাধারণত বিস্তৃত আলোক উৎসের ক্ষেত্রেই সৃষ্টি হয়।

(ii) বিন্দু আলোক উৎসের ক্ষেত্রে প্রচ্ছায়া ও উপচ্ছায়া একই হয়।

(iii) বস্তু ও পর্দার মধ্যে দূরত্ব ব্যবধান কমতে থাকলে প্রচ্ছায়া ও উপচ্ছায়ার মধ্যবর্তী ব্যবধানও কমতে থাকে।

(iv) বস্তু ও পর্দার মধ্যে দূরত্ব ব্যবধান বাড়তে থাকলে প্রচ্ছায়া ও উপচ্ছায়ার মধ্যবর্তী ব্যবধানও বাড়তে থাকে।

(v) বিন্দু উৎস ও বস্তুর মধ্যে দূরত্ব কমালে ছায়া বড় হতে থাকে।

(vi) বিন্দু উৎস ও বস্তুর মধ্যে দূরত্ব বাড়ালে ছায়া ছোট হতে থাকে।

(vii) আলো সরলরেখায় গমন করে বলেই ছায়া গঠিত হয়।

(viii) উপচ্ছায়া কেবলমাত্র বিস্তৃত আলোক উৎসের ক্ষেত্রেই গঠিত হয়।


 আসলে, উপচ্ছায়া অংশে আলোক উৎসের কিছু অংশ থেকে আলো প্রবেশ করার সুযোগ পায়। তাই সেখানে অন্ধকার গাঢ় হতে পারে না। 


১০। (Antumbra) বিপরীত প্রচ্ছায়া ও বলয় সূর্যগ্রহণ :


প্রচ্ছায়ার শীর্ষকোণ যেখানে শেষ হয় সেখান থেকেই আরেকটা ছায়া সৃষ্টি হতে দেখা যায়। একে বিপরীত প্রচ্ছায়া বলে। ইংরেজিতে বলে Antumbra.


প্রচ্ছায়ার শীর্ষকোণ যত ভূপৃষ্ঠের উপরে সৃষ্টি হবে তত বেশি অঞ্চলজুড়ে  বিপরীত প্রচ্ছায়া পড়বে বা দখল করবে। আর যত ভূপৃষ্ঠের কাছে প্রচ্ছায়া সৃষ্টি হবে তত কম অঞ্চলজুড়ে বিপরীত প্রচ্ছায়া সৃষ্টি হবে বা দখল করবে।

বিপরীত প্রচ্ছায়া অঞ্চলে যারা থাকে বা যেসব অঞ্চলে বিপরীত প্রচ্ছায়া সৃষ্টি হবে সেসব অঞ্চল থেকে সূর্যের বলয়গ্রাস দেখা যাবে যা রিং অফ ফায়ার নামে পরিচিত।



চিত্রে Antumbra অঞ্চলে থাকা লোকটি তার সামনে থাকা ফুটবলটিকে লাইট বাল্বের মাঝে দেখতেছেন।ফুটবলের চারপাশে লাইট বাল্বটির উজ্জ্বল,আলোকিত অংশটি কে বলয় আকারে দেখা যাচ্ছে।লোকটি যেখানে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছেন সেখানে Umbra এর শীর্ষকোণ বা Umbra শেষ হয়ে গেছে এবং Antumbra শুরু হয়ে গেছে।


সাধারণত কোনো আলোক উৎস

যদি আপনার সামনে রাখা বস্তু (যাতে আলোক উৎসের আলো বাধাপ্রাপ্ত হয়) এর চেয়ে আপাতভাবে বড় হয় তবে এই বিপরীত প্রচ্ছায়া(Antumbra) সৃষ্টি হবে।



আমরা জানি, সূর্যের চেয়ে চাঁদ প্রায় অনেক ছোট হলেও সূর্যের চেয়ে অনেক কাছে থাকায় চাঁদ এবং সূর্যকে প্রায় সময়ই সমান আকৃতির মনে হয়।কিন্তু যখন চাঁদ পৃথিবী থেকে দূরে চলে যায় বা পৃথিবী চাঁদ থেকে দূরে সরে যায় তখন চাঁদকে আর আগের মত সূর্যের সমান মনে হয় না।তখন চাঁদকে সূর্যের চেয়ে ছোট মনে হয়।আর তখন যদি কোনো গ্রহণ সংঘটিত হয় তবে সে অপেক্ষাকৃত ছোট চাঁদের পক্ষে সূর্যের সমস্ত অংশ ঢেকে দেওয়া সম্ভব হবে না।

কেন্দ্রের চারপাশে দেখা যাবে যে ফাঁকা স্থান বেরিয়ে আছে। ফলে আমরা চাঁদের চারপাশে সূর্যের প্রায় গোলাকার অনাবৃত অংশকে রিং অফ ফায়ার বা আগুনের বলয় হিসেবে দেখব।

তারমানে Antumbra সৃষ্টি বা চাঁদ পৃৃথিবীর  যথেষ্ট কাছে না থাকাই বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহনের মূল কারণ।


চিত্র-বলয় গ্রাস সূর্যগ্রহন বা রিং অফ ফায়ার।


১১। বলয় গ্রাস:

কিন্তু চাঁদের কৌণিক ব্যাস সূর্যের চেয়ে ছোট হলে হবে বলয় গ্রহণ। অমাবস্যার সময়ে সূর্যগ্রহণ হয় তবে সব অমাবস্যায় সূর্যগ্রহণ হয় না, কারণ চাঁদ ভূ-কক্ষের সাথে প্রায় ৫ ডিগ্রি+ হেলে থাকে।


বলয়গ্রাস দেখতে হলে আমাদের চাঁদের বিপরীত প্রচ্ছায়ার মধ্যে থাকতে হয় । আমরা জানি চাঁদ স্থির নয়। চাঁদ সর্বদা পৃৃথিবীর পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তিত হচ্ছে।যেহেতু চাঁদ সরে যাচ্ছে সেহেতু চাঁদের ছায়াও সাথে সাথে সরে যাবে। চাঁদ সরে যাওয়ায় বা আবর্তিত হওয়ায় চাঁদের এই ছায়াটা পৃথিবীর বুকে পশ্চিম থেকে পূর্বে এমন একটি সরুপথে ভ্রমণ করে, যার প্রস্থ মাত্র কয়েকশ কিলোমিটার । ফলে পৃথিবীর খুব কম মানুষই নির্দিষ্ট কোনো বলয়গ্রহণ দেখতে পারে । তাছাড়া বেশিরভাগ সময়ই গ্রহণের পথটি পড়ে সমুদ্রের উপর, যেখানে মানুষের বসবাস নেই বললেই চলে । অন্যদিকে চাঁদের ছায়া পৃথিবীর বুকে ঘণ্টায় ১৫০০ কিমি এর বেশী বেগে ভ্রমণ করে, যার ফলে গ্রহণের সময়কালটাও হয় সীমিত ।ধরেন বাংলাদেশের ঢাকার উপর বিপরীত প্রচ্ছায়া অঞ্চল আছে।এখন চাঁদ যদি তার আবর্তনজনিত কারণে দ্রুত সরে যায় তবে ছায়াটাও আর ত ঢাকায় থাকবে না

ঢাকা থেকে পশ্চিম দিকে ছায়াটা সরতে থাকবে


এভাবে ছায়াটা পূর্ব থেকে পশ্চিমে ভ্রমণ করবে এবং সে ছায়ার নিচে যে অঞ্চলগুলো পড়বে সেসব অঞ্চল থেকে সে বলয়গ্রাস দেখা যাবে।বলয়গ্রাস গ্রহণের সময় পূর্ণগ্রাস গ্রহণের মত রাতের অন্ধকার সৃষ্টি হয়না।পূর্ণগ্রাস সূর্য দেখতে হলে আমাদের চাঁদের ছায়ার মধ্যে থাকতে হয় । অর্থাৎ চাঁদ সূর্যকে সম্পূর্ণ ঢেকে ফেলে । কিন্তু বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণে চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলতে পারে না ।চাঁদ সূর্যের কেন্দ্রসহ কেন্দ্রের আশেপাশের কিছু অঞ্চল ঢেকে ফেলে কিন্তু পুরো সূর্যকে ঢাকতে পারে না। 

সূর্যের কিনারা ঘেঁষে চাঁদের চারপাশে  একটি বলয় দৃশ্যমান হয়।

এক্ষেত্রে চাঁদ পৃথিবী থেকে দূরবর্তী অবস্থানে থাকে তাই  প্রচ্ছায়া পৃৃথিবীর ভূপৃষ্ঠে পতিত বা গঠিত না  হয়ে ভূপৃষ্ঠের উপরে গঠিত হয়।ভূপৃষ্ঠের উপরে আপনি প্রচ্ছায়ার শীর্ষ কোণবিন্দু দেখতে পারবেন যা প্রচ্ছায়া শেষ সীমা (মানে এর পরে আর প্রচ্ছায়া নেই)



আংশিক সূর্যগ্রহণ থেকে এক্ষেত্রে এটার তফাত হলো যে চাঁদ সূর্যের ঠিক সম্মুখভাগে ভেতরে অবস্থান করতে পারে এবং ছায়ার কেন্দ্রস্থলে থাকে সূর্য।




১২। হাইব্রিড সূর্যগ্রহন 

(পূর্ণ+বলয়+আংশিক)


এই প্রকারের গ্রহণে একই সাথে পৃথিবীর কিছু অংশ থেকে বলয়গ্রহণ,  কিছু অংশ থেকে পূর্ণগ্রহণ দেখা যায় এবং পাশাপাশি আংশিক সূর্যগ্রহনও দেখা যায় তখন।এই হাইব্রিড গ্রহণ বাগে অন্যান্য গ্রহণের সময় কখনো এই তিনটাই গ্রহণ একসাথে পৃৃথিবীতে ঘটে না।যেমন ধরেন আজ ভারতে বলয়গ্রাস কিন্তু আমাদের দেশে আংশিক গ্রাস, আবার ধরেন ইতালিতে পূর্ণগ্রাস এবং স্পেনে আংশিক গ্রাস।

পূর্ণগ্রাস আর বলয়গ্রাস একসাথে পৃৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে খুব কমই ঘটে। বা, ঘটেই না বলা যায়। যদি এই দুই প্রকার মানে পূর্ণগ্রাস এবং বলয়গ্রাস একইসাথে পৃৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ঘটে তবে সে সূর্যগ্রহনকে হাইব্রিড সূর্যগ্রহন বলবে।আর হাইব্রিড সূর্যগ্রহনে এই দুই গ্রহণের পাশাপাশি আংশিক গ্রহণও ঘটে থাকে।




পৃৃথিবীর সমস্ত অঞ্চল থেকে চাঁদের দূরত্ব একইরকম না। কারণ পৃথিবী কোনো মসৃণ সমতল না। মানে পৃথিবী ফ্ল্যাট নয় বরং গোলাকার।

ফলে একদম উত্তর মেরু থেকে চাঁদের মধ্যকার দূরত্ব যত হবে তারচেয়ে পৃৃথিবীর মাঝের বিষুবীয় অঞ্চল থেকে চাঁদের দূরত্ব কম হবে। তেমনি এভারেস্ট  পর্বতশৃঙ্গ থেকে চাঁদের যে দূরত্ব তারচেয়ে আপনার বাড়ি থেকে চাঁদের দূরত্ব বেশি।


আবার মূল মধ্যরেখার পশ্চিম দিকের দেশ আমেরিকা থেকে চাঁদের যে দূরত্ব তারচেয়ে মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্বের দেশ ইরাক থেকে চাঁদের দূরত্ব কম।


সারকথা হলো, পৃৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চাঁদের দূরত্ব বিভিন্ন রকম।

আমরা জানি, পৃথিবী ও চাঁদের মাঝের দূরত্বের ভিন্নতার কারণে বিভিন্ন রকমের গ্রহণ সৃষ্টি হয়। দূরত্ব কম থাকলে পূর্ণগ্রাস এবং তুলনামূলক  বেশি থাকলে বলয়গ্রাস সৃষ্টি হয়।


কারণ পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যকার  দূরত্ব যত কম হবে চাঁদ তত বড় দেখাবে এবং চাঁদ দ্বারা সৃষ্ট প্রচ্ছায়া তত বেশি অঞ্চল নিয়ে বিরাজ করবে, পৃৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের তত কাছে পতিত হবে এবং   

তত বেশি অঞ্চলব্যাপী জায়গা নিয়ে পৃৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের উপর পতিত হবে।

আর যত দূরত্ব বেশি হবে তত প্রচ্ছায়া ভূপৃষ্ঠ থেকে দূরে  উপরে সৃষ্টি হবে এবং তত বেশি অঞ্চলব্যাপী বিপরীত প্রচ্ছায়া সৃষ্টি হবে।কীভাবে সৃষ্টি হবে,কেন হবে তা পূর্বেই বিস্তারিত  আলোচনা করেছি।

আমরা জানি, দূরত্বে বেড়ে গেলে চাঁদের দ্বারা সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দেওয়া সম্ভব হয় না ফলে বলয়গ্রাস গ্রহণ ঘটতে দেখা যায়।আবার দূরত্ব বেশ কম থাকলে চাঁদের দ্বারা সূর্যকে ঢেকে দেওয়া সম্ভব হয়।


এখন ধরেন,

কোনো এক সূর্যগ্রহনের দিন

পশ্চিমের দেশ আমেরিকা ও চাঁদের মাঝে এমন দূরত্ব তৈরি হয়েছে যে চাঁদের পক্ষে পুরো সূর্যকে ঢেকে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।কারণ সেখানে চাঁদ ও আমেরিকার মাঝে বেশি দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ঐ দিন আমেরিকা থেকে বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহন দেখা যাবে।


আর অন্যদিকে  ইরাকের ভূখন্ড চাঁদ থেকে তুলনামূলক কাছে থাকায় 

এবং চাঁদ ও ইরাকের মাঝের দূরত্ব তুলনামূলক কম থাকায় কখনো এমন perfect দূরত্ব সৃষ্টি হয় যে চাঁদের পক্ষে পুরো সূর্যকে ঢেকে দেওয়া সম্ভব হয়ে যায়। কারণ যত কাছে চাঁদ তত বড় চাঁদ।আর যত বড় চাঁদ তত চাঁদের দ্বারা সূর্যকে পুরোপরি ঢেকে দেওয়ার হারও বেশি।

ফলে ইরাকের মানুষ তাদের দেশেরে দিনের আকাশে চাঁদের দ্বারা সূর্যের পূর্ণগ্রাস দেখতে পারবে। 

আবার এমনও হতে পারে আমেরিকার কোনো উঁচু স্থান চাঁদের বেশ কাছে ফলে আমেরিকায় তখন বলয়গ্রাস চললেও সে আমেরিকারই কিছু অংশ থেকে পূর্ণগ্রাস দেখা যেতে পারে। তেমনি ইরাকের কিছু স্থান যদি খুব নিচু হয় বা চাঁদ থেকে দূরে হয় তবে ইরাকে তখন পূর্ণগ্রাস চললেও ইরাকের সেই অঞ্চল থেকেই আবার বলয়গ্রাস দেখা যেতে পারে।আবার সেই বলয়গ্রাস এবং পূর্ণগ্রাসের আশেপাশের উপচ্ছায়া অঞ্চলে আংশিক গ্রাসও হবে।

আবার একই ভূপৃষ্ঠ পৃৃথিবীর আবর্তনের কারণে চাঁদের দূরবর্তী স্থান থেকে তুলনামূলক কাছের স্থানে আসলে সে স্থানে পূর্বে বলয়গ্রাস ঘটে থাকলে তখন সেখানে একই স্থানে  পূর্ণগ্রাসও ঘটতে পারে।


ধরেন,আমেরিকা গ্লোবের পশ্চিমে থাকে এবং চাঁদ থেকে বেশ ভালোই দূরত্বে আছে।এখন আমেরিকার সে ভূপৃষ্ঠের অংশটা পৃৃথিবীর দৈনিক আবর্তনের কারণে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তিত  হয়ে অবস্থান নিবে।একটা সময় এসে দেখা যাবে যে চাঁদ ও পৃৃথিবীর মাঝে দূরত্বটা আগের চেয়ে ভালোই কমে গেছে।তখনই আগের বছরগুলোতে  যেখানে সে অঞ্চলে বলয়গ্রাস দেখেছেন সেখানে আপনি অন্য বছর পূর্ণগ্রাস দেখতে পেতেও পারেন।

অবজারভার কোথায় অবস্থান করতেছেন সেটির ভিত্তিতে হাইব্রিড সূর্যগ্রহণ বিভিন্ন প্রকার সূর্য গ্রহণ হিসেবে পৃৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে আভির্ভূত হয়।

আমরা জানি, পৃথিবী,চাঁদ, সূর্য এরা সবাই আবর্তিত হয় নিজ অক্ষে।

এখন ধরেন আমেরিকায় কোথাও চাঁদের দ্বারা বিপরীত প্রচ্ছায়া(Antumbra) সৃষ্টি হয়েছে। এখন সে চাঁদের বিপরীত প্রচ্ছায়া কি সেখানে স্থির হয়ে বসে থাকবে?

না, থাকবে না।কারণে চাঁদ ও পৃথিবী উভয়ই নিজ অক্ষে ঘূর্ণায়মান। এখন চাঁদ যদি পৃৃথিবীর চারপাশে আবর্তিত হতে গিয়ে জায়গা পরিবর্তন করে তবে চাঁদের দ্বারা পৃৃথিবীর ভূপৃষ্ঠে যে ছায়া পড়েছে সে ছায়াও চাঁদের আবর্তনের সাথে জায়গা পরিবর্তন করবে।যেমন আপনি হাটার সময় রাস্তার উপর যে আপনার ছায়া পড়ে সে ছায়া কি আপনার কন্টিনিয়াস হাটার সময় স্থির হয়ে থাকে নাকি আপনার হাটার সঙ্গে সঙ্গে আপনার ছায়া আপনার চলার সাথে সাথেই পরিবর্তিত হয়?

অবশ্যই আপনার সাথে সাথে ছায়া চলে।

তেমনি চাঁদ যখন পৃৃথিবীর উপর দিয়ে আবর্তন করতে যায় তখন পৃৃথিবীর উপর চাঁদের যে ছায়া পড়ে সে ছায়াও চাঁদের সাথে সাথে পৃৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের  উপর চলমান থাকে। এই সম্পূর্ণ পথ কে path of totality(পূর্ণগ্রাসের সময়) / path of anuality(বলয় গ্রাসের সময়) বলে।

Path of totality এর অধীনে যে যে অঞ্চলগুলো থাকে সে অঞ্চলগুলোতে পূর্ণগ্রাস দেখা যায় এবং path of anuality এর অধঢনে যে অঞ্চলগুলো থাকে তাতে বলয়গ্রাস দেখা যায়। মানচিত্রে path of totalty এবং path of anuality আলাদা আলাদা দাগ করে চিহ্নিত করা থাকে যাতে সহজেই পৃৃথিবীর কোন অঞ্চলে কোন গ্রহণ হবে সহজেই যেন তা বুঝা যায়।

চাঁদের ছায়ার এ  চলনের সময়  সে ছায়া একেক সময় পৃৃথিবীর একেক অঞ্চল ছুঁয়ে যায়। পৃৃথিবীর সব অঞ্চর সব যেহেতু একই সমতলে নয় এবং চাঁদ থেকে একই দূরত্বে নয় ফলে চাঁদের সে চলমান ছায়া কখনো প্রচ্ছায়া,কখনো বিপরীত প্রচ্ছায়া সৃষ্টি করে বা কখনো শুধু উপচ্ছায়ার সৃষ্টি করে।

ধরেন চাঁদের সেই ছায়াটা এভারেস্ট পর্বত টাচ করে যাচ্ছে এবং একটু পর আপনার বাড়ির উপর দিয়ে গেলো।এখন এভারেস্ট কিন্তু বেশ উপরে। এভারেস্ট পৃৃথিবীর অংশ।পৃৃথিবীর সে অংশ থেকে চাঁদের দূরত্ব কিন্তু কম আবার আপনার বাড়ি থেকে চাঁদের দূরত্ব কিন্তু এভারেস্টের চেয়ে বেশি।


তাহলে, এখন বলুন ত এভারেস্টের পর্বতশৃঙ্গে চাঁদের সে ছায়াটা যে প্রকৃতির ছায়া সৃষ্টি করবে সে একই প্রকার ছায়া কী আপনার বাড়ির উপরে সৃষ্টি করবে?

করবে না।

হয়তো দেখা যাবে এভারেস্ট চাঁদের  কাছে থাকায় সেখানে প্রচ্ছায়া সৃষ্টি হয়েছে এবং আপনার বাড়ি চাঁদ থেকে  দূরে থাকায় হয়তো দেখা যাবে প্রচ্ছায়ার শীর্ষ কোণটুকু বা চাঁদের প্রচ্ছায়া অংশ আপনার বাড়ি টাচ করতে পারেনি। ফলে হয়তো দেখা যাবে আপনার বাড়ি চাঁদের বিপরীত প্রচ্ছায়ায় পড়ে গেছে।ফলে আপনি আপনার বাড়ি থেকে হয়তো  বলয়গ্রাস দেখবেন  এবং এভারেস্টের উপরে থাকা ব্যক্তিটি পূর্ণগ্রাস দেখবে।

চাঁদের সাথে দূরত্ব কম থাকলেই কেন প্রচ্ছায়া এবং চাঁদ থেকে দূরে থাকলে কেন বিপরীত প্রচ্ছায়া সৃষ্টি হয় তার ধারণা পূর্বেই ক্লিয়ার করেছি।নতুন করে বলা নিষ্প্রয়োজন। চাঁদ পৃথিবীর কিছু অঞ্চল থেকে অধিক দূরত্বে থাকায় প্রচ্ছায়া পুরোপুরি পৃথিবীতে পৌঁছতে পারে না বা ভৃপৃষ্ঠে তৈরি হতে পারে না।সেখানে বিপরীত প্রচ্ছায়া সৃষ্টি হয়ে সেখানের অধিবাসীরা বলয়গ্রাস উপভোগ করে।

তারমানে পৃৃথিবীর কার্ভেচার এবং চাঁদ থেকে দূরত্বের ভিন্নতা হাইব্রিড সূর্যগ্রহণ সৃষ্টির মূল কারণ।





 চিত্র অনুযায়ী, গ্রহণের চলন পথের উপর এবং নিচের অংশের পর্যবেক্ষণকারী বলয়গ্রহণ প্রত্যক্ষ করবেন। যেহেতু গ্রহণের পথ পরিবর্তিত হচ্ছে তাই গ্রহণের চলন পথের কেন্দ্রে অবস্থিত কোন পর্যবেক্ষণকারীর কাছে তা পূর্ণগ্রহণ মনে হবে। আবার যারা এই গ্রহণের চলন পথের কাছাকাছি অবস্থিত, কিন্তু এর মধ্যে নয় তাদের কাছে এটিকে মনে হবে আংশিক গ্রহণ। চাঁদ পৃথিবী থেকে খুব দূরে অবস্থান করায় এক্ষেত্রে দৃশ্যমান পূর্ণগ্রহণ হবে খুবই সংক্ষিপ্ত।এর আগে ২০০৫ ও ২০১৩সালে হাইব্রিড গ্রহণ হয়েছিলো। তবে পৃথিবী যদি গোলাকার না হয়ে সমতল হতো তবে এসব হাইব্রিড গ্রহণের নামও সৃষ্টি হতো না।কই ফ্ল্যাট আর্থাররা?হাইব্রিড গ্রহণের ব্যাখ্যা দিন ত একটু।আপনাদের পৃথিবী না বলে সমতল?

তাহলে হাইব্রিড গ্রহন ঘটে কেন?

আর একেক জায়গায় চাঁদের একেক প্রকৃতির ছায়া কেন সৃষ্টি হয়?


১৩।

Path of totality/Anuality  :


পূর্ণগ্রাস/বলয়গ্রাস চলার সময়ে চাঁদের আম্ব্রা, আন্টামব্রা আঞ্চলটি দ্রুত পৃথিবীর দিকে পশ্চিম থেকে পূর্বে সরে যেতে থাকে।কারণ চাঁদ ত আর বসে থাকে না বা পৃথিবীও বসে থাকে না।পৃথিবী নিজেও এই সময় ২৮কি.মি/সেকেন্ড গতিতে পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন করতে থাকে।কিন্তু চাঁদের একই দিকে এই ঘূর্ণন গতি সেকেন্ডে ৬১ কি.মি থাকে এবং আম্ব্রা অঞ্চলটি পশ্চিম-পূর্বে বিচ্ছিন্ন ভাবে এগুতে থাকে অঞ্চলটির প্রস্থ নির্ভর করে সূর্য ও চাঁদের আপেক্ষিক ব্যাসের উপরে।প্রতিকূল আবহাওয়ায় দেখা গেছে একটি পূর্ণগ্রাস গ্রহনে ওভার ল্যাপ করা এই অঞ্চলটি প্রস্থে ২৫০ কি.মি এরও বেশি হয়ে থাকে এবং এর ব্যাপ্তিকাল প্রায় ৭ মিনিটের মত।কেন্দ্রীয় সীমারেখার বাইরে আংশিক গ্রহনের ব্যাপারটিই হয়ে থাকে আর পৃথিবীতে এটার প্রশস্ততা বেশি হয়।সাধারনত আম্ব্রা ১২০-১৫০ কি.মি প্রশস্ত এবং প্যানাম্ব্রাল ব্যাস ৬৪০০ কি.মি পর্যন্ত হতে দেখা যায়।

মানে সংক্ষেপে

গ্রহণের সময় চাঁদ যে কক্ষপথে পৃথিবীকে আবর্তন করে, শুধুমাত্র সেই কক্ষপথের নিচে নিচে থাকা পৃথিবীপৃষ্ঠের উপরেই চাঁদের পূর্ণাঙ্গ ছায়া পড়ে। ভূপৃষ্ঠের ঐ কল্পিত রেখাকে পূর্ণগ্রাসের ক্ষেত্রে বলা হয় “পাথ অফ টোটালিটি।” এবং বলয়গ্রাসের সময় বলা হয় পাথ অফ অ্যানুয়ালিটি।

এই পৃৃথিবী বেষ্টনকারী   সীমানরখাতে অবস্থানরত অধিবাসীরাই শুধুমাত্র পূর্ণগ্রহণ দেখার সুযোগ পায়। বাকিদের আংশিক গ্রহণ দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।


চিত্র-২৭-পাথ অফ টোটালিটি


(+হাইব্রিড সূর্যগ্রহনের শেষেরটুকু দেখুন)


২৮।দূরত্বের সাথে গ্রহণের সম্পর্ক:


১।

পূর্ণগ্রাসের সময় চাঁদ ও পৃৃথিবীর মাঝে দূরত্ব তুলনামূলক কম থাকে। যত কম দূরত্ব থাকবে তত বেশি সময়ব্যাপী চাঁদ সূর্যকে পূর্ণভাবে গ্রাস করে রাখতে পারবে।

২।

বলয়গ্রাস এবং আংশিক গ্রাসের সময় চাঁদ ও পৃৃথিবীর মাঝের দূরত্ব পূর্ণগ্রাসের মত এতটা কাছে থাকে না। চাঁদ তুলনামূলক দূরে থাকে তখন।

যত দূরে থাকবে বলয়ের দ্বারা অধিকৃত জায়গা তত বড় হবে মানে বলয় ততবেশি প্রশস্ত বা মোটা হবে।




২৯।

সূর্যগ্রহন কেন দিনেই কেবল ঘটে?

আচ্ছা, সূর্যগ্রহনের সময় কী ঘটে?

সূর্য আর পৃৃথিবীর মাঝে চাঁদ এসে সূর্যকে ঢেকে দেয়।


তারমানে সূর্যগ্রহনের সময়  সূর্যকে ঢেকে দিতে হয়।এখন রাতে কেন সূর্যগ্রহন ঘটে না? কেন সবসময় দিনেই ঘটে।

একদম সোজা হিসাব।রাতে যে আপনার লোকেশনের  সূর্যগ্রহণ ঘটানোর কথা  ভাবছেন-

 তা রাতে চাঁদ সূর্যকে কোথায় পাবে যে তাকে গ্রহণ করবে?রাতে ত সূর্য দৃশ্যমান থাকে না।সন্ধ্যায়ই তো সূর্য পৃৃথিবীর দিগন্ত রেখার নিচে নেমে যায় বা সূর্যের অস্ত হয়।

তারমানে রাতে সূর্যের মুখ দেখা স্বাভাবিকভাবে সম্ভব নয়।আর রাতে যদি সূর্যেরই দেখা না পান তবে রাতের চাঁদ কোন সূর্যকে গ্রহণ করবে?



আর 

কোনো কোনো অমাবস্যায় সূর্যগ্রহন ঘটে কথাটির মানে ত এটা না যে অমাবস্যা রাতে সূর্যগ্রহন ঘটে। অমাবস্যায় সূর্যগ্রহন ঘটে কথাটির মানে হলো সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদের যে দশা চলমান থাকে সে দশাটির নাম হলো অমাবস্যা দশা বা, New moon.

চাঁদের যে দিক পৃৃথিবীর দিকে মুখ তাক করে থাকে সেদিকে সূর্যের আলো না পড়ায়  চাঁদ অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে । আর সে অমাবস্যা দশায়চাঁদ অন্ধকারাচ্ছন্ন ত কেবল রাতেই থাকে না,দিনেও থাকে বাট  আমরা  রাতের কথাটাই খেয়াল করি। কারণ রাতে আমরা চাঁদ দেখে অভ্যস্ত।ফলে রাতে চাঁদ খুঁজে না পেলে সকল কিছু অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে বিধায় চাঁদের অনুপস্থিতি সহজেই আমাদের মরে জানান দেয়।দিনে চাঁদের অমাবস্যা দশা চললেও আমরা দিনে সে অন্ধকারাচ্ছন্ন চাঁদকে কেউ অবলোকন করতে যাই না।কারণ দিনে ত চাঁদকে সূর্যের আলোর প্রখরতার কারণে এমনেই দেখা যায় না।ফলে দিনে আমরা কেউ চাঁদ খোঁজাখুঁজি করিনা।কারণ সূর্যের আলো থাকতে দিনে কেউ চাঁদের আলো খোঁজে না।


 তারমানে সূর্যগ্রহন ঘটে কখন?-

সূর্যগ্রহন ঘটে চাঁদের অমাবস্যা দশায় তবে সে দশার দিনের অংশে কিন্তু রাতের অংশে নয়।



১৪। ছায়ালহরী

গ্রহণের সময় সূর্য যেমনি ঢাকা পড়তে আরম্ভ করে গাছের নিচে পাতার ফাঁক দিয়ে যে আলো মাটিতে পড়ে তাদের প্রতিবিম্বতেও ঐ সূর্যের আকারের প্রভাব থাকে। এইসময় অন্ধকার হওয়ার কয়েক মিনিট আগে আলো ছায়ার ঢেউ বা ছায়ালহরী ভাল করে পর্যবেক্ষণ করলেই তবেই দেখা যায়। গাছের তলায় সাদা চাদর বিছিয়ে ছায়ালহরী দেখা  যায়।



🎞চিত্র-৮


১৫। The Baily's Beads

/বেইলির হার


ইংরেজি, The Baily's beads। পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদ সূর্যকে প্রায় আবৃত করে ফেললেও, চাঁদের পৃষ্ঠদেশ বন্ধুর মানে উঁচু নিচু হওয়ায় সূর্যের কিছু কিছু অংশ অনাবৃত থেকে যায়।চাঁদে থাকা পাহাড়,গিরিমুখ,পর্বতের,উপত্যকা আছে। পূর্ণ সূর্যগ্রহন হয়ে যাওয়ার খানিকক্ষণ আগে ও পরে এইসব অংশের ফাঁকফোকর দিয়ে অপরপাশে থাকা সূর্য থেকে আলোকরশ্মি বের হতে থাকে।  এই অনাবৃত অংশগুলি থেকে বেরিয়ে আসা আলোর ক্ষুদ্রক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন অংশ তখন মুক্তোর মত দৃশ্যমান হওয়ায়  তা দেখে মুক্তার হার বলে মনে হয়। এই ঘটনাটি ১৮৩৬ সালে ফ্রান্সিস বেইলি সবার প্রথমে অবলোকন করেন বলে তার সম্মানার্থে একে বেইলির হার নাম দেয়া হয়েছে।



🎞চিত্র-৯




১৬। হীরকাঙ্গুরী প্রক্রিয়া(The Diamond Ring Effect)

পূর্ণ সূর্যগ্রহণের মুহূর্তখানেক আগে বা পরে  সূর্যের একটি ফালি যখন চাঁদের ছায়া থেকে বেরিয়ে আসে তখন মনে হয় চাঁদের পাশ দিয়ে হীরকখন্ড জ্বলছে। হাতে থাকা আঙটির মত লাগে।অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর দৃশ্য তৈরিকারী এই প্রক্রিয়াটিকে হীরকাঙ্গুরী প্রক্রিয়া (Diamond ring effect) বলা হয় ।পূর্ণগ্রাসের একদম চূড়ান্ত পর্যায়ে মানে যখন সূর্যকে প্রায় গ্রহণ করে ফেলেছে তার সর্বশেষ ধাপে এটি দেখা যায়।চাঁদের পেছনের  সূর্যের একটুকরো আলো  এই ইফেক্ট সৃষ্টি করে।বেইলির বিডগুলো যখন একে একে সব উদাও হয়ে যেতে থাকে তখন সর্বশেষ এ ইফেক্ট সৃষ্টি হয়।এরপর চাঁদ দ্বারা সূর্যের পূর্ণগ্রাস সম্পন্ন হয়।




🎞চিত্র-১০




১৭। অদৃশ্যকরণ

 

(ইংরেজি: Occultation অকাল্টেশন্‌) হল এক ধরনের গ্রহণ। যখন গ্রহণকারী বস্তুর আপাত আকার গ্রহণকৃত (যাকে গ্রহণ করা হচ্ছে)বস্তুটির আপাত আকারের চেয়ে অনেক বড় হয়, তবে সেই ঘটনাকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিশেষ পরিভাষায় "অদৃশ্যকরণ" (occultation অকাল্টেশন) বলে। যেমন - চাঁদের পেছনে দূরের কোন তারা, নীহারিকা বা গ্রহের সম্পূর্ণ ঢাকা পড়ে যাওয়া (চান্দ্র অদৃশ্যকরণ)। কোন প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম উপগ্রহের কিংবা অনুসন্ধানী মহাকাশযানের সৌরজগতের কোন খ-বস্তুর পেছনে সম্পূর্ণ ঢাকা পড়ে যাওয়াও অদৃশ্যকরণ। বিভিন্ন সময় গ্রহাণুর কারণে অন্য তারা বা বৃহস্পতি গ্রহের কারণে এর উপগ্রহসমূহ অদৃশ্য হয়ে যায়।পূর্ণগ্রাস গ্রহণে এ অদৃশ্যকরণ (Occultation) হয়।

১৮। কেন গ্রহণ বাড়ে কমে?


হুট করে ত আর চাঁদ সূর্যকে খাবলা মেরে  ঢেকে দেয় না বরং ধীরে ধীরে সূর্যের দিকে অগ্রসর হয়ে ঢেকে দেয় ফলে গ্রহণও আস্তে আস্তে ঘটে থাকে।যত সময় যায় তত গ্রহণের পরিমান বেড়ে যায়।

একসময় চাঁদ সূর্যের পুরোটা বা আংশিক ঢেকে দেয়।আর ঢেকে দিয়ে চাঁদ ত আর স্থির হয়ে ওখানে বসে থাকে না,বরং সামনে অগ্রসর হতে থাকে বা জায়গা ত্যাগ করতে থাকে ফলে ঢেকে দেওয়াটাও আস্তে আস্তে খুলে যায়।মানে একসময় চাঁদ ঢেকে দেওয়া থেকে বের হয়ে আসে ফলে সূর্যকে আবার দেখা যায় বা গ্রহণ শেষ হয়ে যায়।

যেমন অনেক দূরে একটা এম্বুলেন্স আছে ধরেন।তো,এম্বুলেন্স ত আপনার কাছে উড়ে এসে যাবে না।আস্তে আস্তে আসবে আর যত আপনার কাছে আসবে তত আপনার কাছে অ্যাম্বুলেন্সের শব্দ তীব্র হবে।এক সময় যখন সবচেয়ে কাছে এসে পড়বে তখন শব্দ সর্বোচ্চ থাকবে।আর এম্বুলেন্স কাছে এসে ত আর স্থির হয়ে থাকবে  না বরং আপনার থেকে আবার দূরে সরে যেতে থাকবে

।ফলে শব্দ আস্তে আস্তে আবার কমে যাবে।

কোনো বস্তুকে যখন পুরোপুরি ঢেকে ফেলা হয় তখন তা পূর্ণগ্রাস। আর পূর্ণগ্রাসের পরে বস্তুটি গ্রাসমুক্ত হয়।যে বস্তুটি ঢেকে দিয়েছে সে বস্তুটি ধীরে ধীরে সরে গেলে যে বস্তুটির গ্রহণ হয়েছে সে বস্তুটি আস্তে আস্তে গ্রাস বা গ্রহণমুক্ত হতে থাকে।প্রথমে গ্রহণ পর্ব চলে তারপর গ্রহণ হয়ে গেলে তারপর গ্রহণ মুক্ত করার পালা চলে।

  



১৯। চন্দ্রগ্রহণ কেন হয়?-


চন্দ্রগ্রহণ আজকের আলোচনার টপিক না। আরেকটি পোস্টে আলোচনা করবো। 

একটু সংক্ষেপে তবুও বলি।পোস্টের প্রয়োজনেই।


আগেই বলেছি, পৃথিবী, সূর্য এবং চাঁদের সরলরেখায় সূর্য সবসময় একপ্রান্তে পড়ে থাকে। সরলরেখার অন্য প্রান্তে যখন চাঁদ থাকে, তখন পৃথিবী এসে সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আমরা জানি, চাঁদের নিজস্ব আলো নেই। সূর্যের আলোতে সে আলোকিত হয়। কিন্তু সরলরেখার মাঝখানে পৃথিবী থাকায় সূর্যের আলো চাঁদের নিকটে পৌঁছাতে পারে না। ফলে স্বাভাবিক নিয়মেই চাঁদের উপর পৃথিবীর ছায়া পড়ে। সে ছায়া যখন চাঁদকে ঢেকে ফেলে, তখন ঝলমলে পূর্ণিমাতেও কিছুক্ষণের জন্য আমরা চাঁদকে দেখতে পাই না। এটাকেই বলে চন্দ্রগ্রহণ। অর্থাৎ সহজ ভাষায়, চন্দ্রগ্রহণ মানে চন্দ্রপৃষ্ঠের উপরে পৃথিবীর ছায়া।



🎞চিত্র -৫


বাকিটুকু আগের মতোই। পৃথিবীর ছায়া যখন চাঁদকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলে তখন পূর্ণগ্রহণ হয়, আর চাঁদের কিছু অংশ ঢাকলে হয় আংশিক গ্রহণ। এখানেও আম্ব্রা,প্যানআম্ব্রা আর পাথ অব টোটালিটি-র ব্যাখ্যাগুলো আগের মতোই। 


২০।পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণঃ


পৃৃথিবীর এক পাশে সূর্য এবং অপরপাশে চাঁদ থাকলে চাঁদের উপর পৃৃথিবীর ছায়া পতিত হয় মাঝেমাঝে। চাঁদের উপর পৃৃথিবীর ছায়ার কেন্দ্রী অংশ হলো প্রচ্ছায়া অঞ্চল। এই অঞ্চলে সূর্যের আলো একদমই পৌঁছতে পারে না। 

পৃৃথিবী কারণে এই অঞ্চল পুরোপুরি অন্ধকারাবৃত থাকে।মানে পৃথিবীর ছায়া কোনো বস্তুর উপর পুরোপুরিভাবে পড়লে সে বস্তুর উপর যে ছায়া পড়ে তার নাম প্রচ্ছায়া। চাঁদ যখন পৃৃথিবীর এই প্রচ্ছায়া অঞ্চলে থাকে তখন পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ হয়। এ ঘটনা মাঝে মাঝে পূর্ণিমার সময় ঘটে থাকে।মনে রাখবেন সকল প্রকার চন্দ্রগ্রহণ চাঁদের পূর্ণিমা দশাতেই ঘটে।


🎞চিত্র-৭

সেক্ষেত্রে মানে চন্দ্রগ্রহনের সময়  চাঁদ এবং সূর্যের মাঝে পৃৃথিবী থাকে।চাঁদে সূর্য থেকে যে আলো পতিত হয় তা পৃথিবীর কারণে চাঁদে সূর্যের আলো পতিত হতে পারেনা।


২১। আংশিক চন্দ্রগ্রহনঃ

চাঁদ যেহেতু পৃথিবীর চারপাশে ঘুরে সেহেতু ঘুরতে ঘুরতে চাঁদ যখন পৃথিবীর ছায়া দ্বারা সৃষ্ট উপচ্ছায়া  অঞ্চলে থাকে তখন আংশিক চন্দ্রগ্রহণ(Partial Lunar Eclipse)  হয়।

অন্যদিকে প্রচ্ছায়া অঞ্চলের দুই দিকে অনেকটা এলাকা জুড়ে থাকে উপচ্ছায়া অঞ্চল। উপচ্ছায়া অঞ্চলে সূর্যের আলো কিছু পরিমাণ পৌঁছায়। ফলে চাঁদ যখন শুধুমাত্র উপচ্ছায়ায় অবস্থান করে তখন কোন গ্রহণ ঘটে না, চাঁদকে শুধু কিছুটা ম্লান দেখায় মানে অনুজ্জ্বল দেখায়।



আর চাঁদ যখন সম্পূর্ন প্রচ্ছায়া অঞ্চলে থাকে তখন পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ হয়। 


চন্দ্রগ্রহন নিয়ে জাস্ট আলেচনার দরকারে একটু বললাম।সামনে আরো বিস্তারিত বলবো।প্রচ্ছায়া ও উপচ্ছায়া বিষয়টা জানা কেন জরুরি সেটাই জানানোর জন্যে চন্দ্রগ্রহনের কথা তুললাম।



২২। সূর্যগ্রহণের স্থিতিকাল কী কী বিষয় দ্বারা প্রভাবিত?

পৃথিবী থেকে বেশিক্ষণ ধরে এবং বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সূর্যগ্রহণ দেখতে পাওয়ার শর্ত হল:


১।

সূর্য বেশি দূরত্বে থাকলে তুলনামূলকভাবে সূর্যকে ছোট মনে হবে।ফলে চাঁদের দ্বারা সূর্যকে অনেক সময় ঢেকে রাখা সহজ হবে।ফলে গ্রহণে্ স্থিতি বাড়বে।

২।

চাঁদ কাছে থাকলে  চাঁদকে বড় লাগবে।আর চাঁদের বড় গোলক সূর্যকে বেশিক্ষণ ধরে আড়াল করে রাখতে পারবে।ফলে গ্রহণের স্থিতি বাড়বে

৩।

চাঁদ কাছে থাকলে তার ছায়াও বৃহত্তর ভূ খন্ডের ওপর পড়বে।ফলে বেশি অঞ্চলব্যাপী তুলনামূলক  দীর্ঘসময় নিয়ে গ্রহণ হবে।

৪।

মূলমধ্যরেখার যত কাছে থাকা যাবে গ্রহণ তত দীর্ঘস্থায়ী হবে।কারণ মূল মধ্যরেখা থেকে চাঁদ তুলনামূলক বেশি কাছে।




২৩। পরবর্তী গ্রহণগুলো কবে কবে?


বাংলাদেশ থেকে পরবর্তী বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ ২০৬৪ সালে।

২০০৯ সালে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। বাংলাদেশের আকাশ থেকে ২১১৪ সালের আগে আর কোনো পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না ।

এ বছরের ১০ জানুয়ারি ছিল বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ। ৫ জুন ছিলো ২০২০-র দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণ। এরপর বছরের তৃতীয় চন্দ্রগ্রহণ হবে আগামী  ৫ জুলাই। বছরের শেষ চন্দ্রগ্রহণ হবে ৩০ নভেম্বর।

 December ১৪তে  পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হবে কিন্তু তা বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে না।

কারণ তখন এদেশের সময় যখন ৯টার দিকে তখন অন্য জায়গায় গ্রহণ হবে।


৫ জুলাই এবং ৩০ নভেম্বর আরও দুটি উপচ্ছায়া চন্দ্রগ্রহণ ঘটবে। তবে দুটি ক্ষেত্রে সূর্যাস্তের আগেই গ্রহণ হওয়ায় এর একটিও  এ দেশে বসে দেখা যাবে না।ইউটিউবে দেখতে হবে।


২০০০সাল থেকে ৩০০০০সালের মধ্যে মানে এই ১হাজার বছরের মধ্যে 

মোট ১১,৯৯৮টি গ্রহণ হবে যার মাঝে ৪২০০টি আংশিক গ্রহণ(৩৫.৩%)

৩৯৫৬টি বলয় গ্রহণ(৩৩.২%)

৩১৭৩টি পূর্নগ্রাস(২৬.৭%)

এবং ৫৬৯ টি হাইব্রিড গ্রহণ হবে(৪.৮%)

 হাইব্রিড গ্রহণ কেন এত রেয়ার তা আরেকদিন আলোচনা করবো।

প্রতিবছর গড়ে ২.৪টি গ্রহণ ঘটে থাকে।একবছরে ২-৫টি গ্রহণ ঘটতে পারে।১৯৩৫সালে ৫টি 

সূর্যগ্রহন ঘটেছিলো যা সর্বোচ্চ কোনো একক বছরে এবং ২২০৬সালে একই বছরে আবার ৫টি সূর্যগ্রহন  হবে।

https://www.timeanddate.com/eclipse/hybrid-solar-eclipse.html



সাধারণত ১-২বছরে ১টি পূর্ণগ্রাস ঘটতে দেখা যায়।তবে ১বছরে পরপর ২টি পূর্ণগ্রাসও ঘটতে পারে যা রেয়ার।২০৫৭,২২৫২সালে একই বছরে দুটি পূর্নগ্রাস ঘটবে।এখানে গিয়ে এসকল গ্রহণের পূর্ব অনুমিত লিস্ট দেখে আসতে পারেন।


https://en.wikipedia.org/wiki/List_of_solar_eclipses_in_the_21st_century





২৪। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ miss করতে হবে:


পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হতে চাইলে চাঁদকে পৃথিবীর তুলনামূলক  কাছে থাকা একটি অন্যতম শর্ত।চাঁদ পৃথিবী থেকে প্রতিবছর প্রায় ৪সেমি করে দূরে সরে যাচ্ছে।কোনো বস্তু যত দূরে সরে যায় তত তাকে ছোট দেখায়। আর ছোট বস্তু(চাঁদ) দ্বারা বড় বস্তুকে(সূর্য) ঢেকে দেওয়া সম্ভব হয় না।ফলে ৬৫০মিলিয়ন+ (৬০কোটি+) বছর পরে হয়তো আর পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ আর দেখা যাবে না। তখন বলয়,আংশিক গ্রাস গ্রহণ দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে । বর্তমানে চাঁদ পৃথিবী থেকে যে দূরত্বে আছে তাতে করে ভূপৃষ্ঠ থেকে  চাঁদ ও সূর্যকে সমান বলে মনে হয় । কিন্তু চাঁদ দূরে চলে গেলে সূর্যকে সে পুরোপুরি ঢাকতে পারবে না । ফলে কখনোই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না । মিলিয়ন মিলিয়ন বছর ধরে চাঁদ ও সূর্য ভূপৃষ্ঠ থেকে মোটামুটি একই ব্যাসার্ধের বস্তু বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে । আরো মিলিয়ন বছর বছর একই রকমই থাকবে । এরপর ধীরে ধীরে আমাদের আকাশে চাঁদ ছোট হয়ে আসবে এবং মানুষ হারাবে পূর্ণ-গ্রহণের মতো চমৎকার এক প্রাকৃতিক ঘটনার চাক্ষুষ সাক্ষী হবার সুযোগ (সোর্স?)


২৫। সোলার এক্লিপ্স দ্বারা গ্রহন আন্দাজ-

সূর্যগ্রহণ ঘটার মানে হলো সূর্যগ্রহণ ঘটার ২সপ্তাহ পরে বা আগে অমাবস্যায় চন্দ্রগ্রহণ ঘটবে বা ঘটেছিলো(যদি চাঁদ,সূর্য,পৃথিবী গ্রহণ হওয়ার কৌণিক এঙ্গেলে থাকে)



২৬। কীভাবে সূর্যগ্রহণ দেখা উচিত?


১।

নাসার পক্ষ থেকে পেরিস্কোপে, টেলিস্কোপ, সানগ্লাস বা দূরবীন, কোনও কিছুর সাহায্যে গ্রহণ দেখার সময় সূর্যের দিকে সরাসরি তাকাতে নিষেধ  করা হয়েছে।

https://eclipse2017.nasa.gov/safety

https://www.nasa.gov/content/eye-safety-during-a-total-solar-eclipse

২।

সানগ্লাস বা ঘষা কাঁচ দিয়েও এই গ্রহণ দেখতে মানা করেছে নাসা। কারণ এইগুলোো  নিরাপদ না।এগুলো সূর্যের আলোর প্রবেশ তেমন বাধা দিতে পারেনা।


৩।

সানগ্লাস, কালার ফিল্ম,এক্স-রে ফিল্ম দিয়েও গ্রহণ দেখা তেমন কাজের না।


৪।

ওয়েল্ডার্স গ্লাস নম্বর ১৪-ও সোলার ফিল্টার হিসেবে বেশ ভালো।ওয়েল্ডিং এর দোকানে পেয়ে যাবেন।১৩ ও ১৪ গ্রেডের ওয়েল্ডিং গ্লাস বা আর্ক গ্লাস দিয়ে নিরাপদে সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করা যাবে। ১১ গ্রেডের ওয়েল্ডিং গ্লাস দিয়েও সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। সেক্ষেত্রে দু’টি গ্লাস একত্র করে তারপর দেখতে হবে।

তবে সবাই ত আর এটা কিনবে না বা কেনার মত উৎসাহ দেখাবে না এটাই মূল সমস্যা।

৫।

এছাড়াও পিনহোল ক্যামেরা অথবা টেলিস্কোপ প্রোজেকশনের মাধ্যমে সূর্যগ্রহণ দেখা বেটার।

৬।

তাছাড়া কোনো ফিল্টার দিয়েই একনাগাড়ে বেশিক্ষণ সূর্যের দিকে তাকানো যাবে না। কারন বেশিক্ষণ তাকালে ফিল্টার নষ্ট হয়ে তা অকেজো হয়ে গিয়ে আপনার চোখকে আক্রান্ত করতে পারে।

৭।

সোলার ফিল্টার ছাড়াও পিনহোল ক্যামেরা দিয়ে কোনো স্ক্রিনের ওপর সূর্যের প্রতিবিম্ব ফেলে সূর্যগ্রহণ দেখা যেতে পারে।ইউটিউবে পিনহোল ক্যামেরা বানানোর প্রচুর ভিডিও পাবেন

।কিছু লিঙ্ক-

https://youtu.be/-H5guue53OM

https://youtu.be/r6hj3rxG_EQ

https://youtu.be/WQU-I1-L33I

https://youtu.be/vWMf5rYDgpc

https://youtu.be/71SxRG10sLc

https://youtu.be/NiT_KHRlSHQ

পিনহোল ক্যামেরা দিয়ে সরাসরি সূর্যগ্রহণ না দেখে বরং তা পরোক্ষ ভাবে দেখার সুবিধার কারণে পিনহোল ক্যামেরা দিয়ে গ্রহণ দেখা বেশ ভালো উপায়।


৮।

যদি কোনো উপায় ব্যবস্থা না করতে পারেন তবে বড় ঘামলার স্থির পানিতে সূর্যগ্রহণ দেখার ব্যবস্থা করতে পারেন।

এটি বেশ পুরোনো পদ্ধতি।

৯।

এক্স-রে ফিল্ম, নেগেটিভ, ভিডিও এবং অডিও ক্যাসেটের ফিতা, সানগ্লাস, ঘোলা বা রঙিন কাচেও সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি ও অবলোহিত রশ্মি আটকে না কিংবা সাধারন রশ্মিও তেমন আটকায় না। তাই কোনোক্রমেই এগুলো দিয়ে সূর্যগ্রহণ দেখা উচিত নয়।


১০।

Eclipe glass বা সোলার ফিল্টার দিয়েই গ্রহণ দেখা উচিত। আইএসও স্বীকৃত বিশেষ সোলার গ্লাস দিয়ে  গ্রহণ দেখা নিরাপদ।  কোনওভাবে কোনো  গ্লাসে বা ফিল্টারে ভাঙা বা দাগ থাকলে তা ব্যবহার করা নিষেধ।

১১।পূর্বে  ব্যবহৃত ফিল্টার ব্যবহার করা যাবেনা।কারন তা বেশিরভাগেরই অকেজো হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

১২।

সূর্য যখন পুরোপুরি ঢাকা থাকে (পূর্ণগ্রহণ), তার চেয়ে যখন আংশিক ঢাকা থাকে অর্থাৎ আংশিক সূর্যগ্রহণকালে সূর্যের দিকে তাকালে চোখের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।


অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী বিশেষ চশমা চোখে দিয়ে সূর্যগ্রহণ দেখা যেতে পারে। ছবি তুলতে হলেও ক্যামেরায় সোলার ফিল্টার ব্যবহার করা উচিত

অন্যথায় ক্যামেরার ক্ষতি হতে পারে। লেন্সে সমস্যা হতে পারে।

তবে ক্যামেরার মানভেদে ক্ষতির পরিমাণ ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে।

https://photo.stackexchange.com/questions/4016/can-the-sun-damage-the-camera-sensor-under-what-conditions


https://www.google.com/amp/s/www.space.com/amp/37891-photograph-solar-eclipse-with-cell-phone.html



১৩।

মোবাইলের ক্যামেরা, টেলিস্কোপ, বাইনোকুলার দিয়েও সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো উচিত না।এসবে পতিত ঘনীভূত সূর্যরশ্মি এসবে থাকা ফিল্টারকে নষ্ট করে দিতে পারে এবং তা থেকে আলোকরশ্মি  আপনার চোখে ঢুকে আপনার চোখের ক্ষতি করতে পারে।তাই এসবের সামনে ফিল্টার রেখে তাকাতে হবে। 

https://eclipse2017.nasa.gov/safety


১৪।

কখন গ্রহণ শুরু হবে,শেষ হবে তা জেনে সূর্যগ্রহণ দেখা উচিত। কারণ অনেকেই এটা জানে না বিধায় বারবার আকাশে সূর্যের দিকে তাকায় কিন্তু জানা থাকলে তেমন তাকায় না।ফলে ক্ষতির সম্ভাবনা কম থাকে।কারণ বারবার সে সূর্যের দিকে তাকাচ্ছে না।

আপনার  actual লোকেশনে কখন গ্রহণ শুরু হবে,শেষ হবে,কখন সর্বোচ্চ গ্রহন হবে ইত্যাদি জানতে নিচের লিঙ্কে যেতে পারেন

https://www.timeanddate.com/eclipse/globe/2020-june-21

 ১৫।

ক্যামেরা করার সময় খুব সাবধানে থাকতে হবে। কারন অসতর্কতাবশত ক্যামেরা করতে গিয়ে আমরা সূর্যের দিকে তাকিয়ে ফেলি।

১৬।

সবচেয়ে বড় কথা যারা এসব জানেনা যেমন বাচ্চা,বৃদ্ধ,বাবা,মা,দাদা দাদী,স্বজন তাদের জানানোটা সবার আগে জরুরি।

বিশেষ করে বাচ্চাদের সাবধানে রাখবেন

।তারা উৎসাহী হয়ে বেশি বেশি তাকায় যা বিপদজনক।



 ২৭। সূর্যগ্রহণ সরাসরি দেখা ক্ষতিকর কেন?

সাধারণভাবে সূর্যের দিকে তাকানোর সাথে পার্থক্য কী?


সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো মোটেই উচিত না তা যেকোনো দিনেই হোক।সাধারণ দিনেও যদি সরাসরি সূর্যের দিকে তাকিয়ে থাকেন তবেও আপনার চোখে সমস্যা হতে পারে।তবে

সূর্যগ্রহণের দিন কেন এত আলাদা করে  কড়াকড়িভাবে সূর্যের দিকে তাকানো নিষেধ করা হয়?

কী এমন ঘটে?

আসলে এর উত্তর পোস্টের প্রথম বাক্যটাই।

আসলে আমরা সাধারণত সূর্যগ্রহণ ছাড়া আউশ করে কেউ সূর্যের দিকে তাকায় না তবে আপনার টিচার যদি শাস্তিস্বরূপ সূর্যের দিকে তাকিয়ে থাকতে বলে তবে তা ভিন্ন কথা😉।


যেটা বলছিলাম-সাধারণত সূর্যগ্রহণ ছাড়া আউশ করে কেউ সূর্যের দিকে তাকাই না কেউই।ভুল করে তাকালেও তা খুব কম সময়ের জন্যে। ফলে অন্য দিন সূর্যের দিকে তাকানোও হয় না এবং না তাকানোর ফলে চোখের ড্যামেজেরও কোনো ভয় নেই।তাই অন্যান্য দিন সূর্যের দিকে তাকানো নিয়ে কেউ এত মাথা ঘামায় না।কারণ সবাই জানে আউশ করে হলেও কেউ সূর্যের তীব্র আলোর দিকে সচরাচর তাকায় না।তাই তখন কেউ এত সাবধান বাণীও শোনায় না।কারণ সবাইই জানে যে সাধারণ দিনে কেউ সূর্যের দিকে সরাসরি তাকায় না।


তবে যদি সাধারণ দিনে সূর্যের দিকে তাকান তবে কিন্তু ক্ষতি ঠিকই হবে এবং বিপদের সম্ভাবনা আছে। যতটা ক্ষতির সম্ভাবনা সূর্যগ্রহণের সময় সূর্যের  দিকে তাকানোতে আছে অতটাই সম্ভাবনা সাধারণ দিনে সূর্যের দিকে তাকানোতে আছে।তবে আরেকটু কথা আছে-

সাধারন দিনেও ভুলেও যদি সূর্যের দিকে তাকাতে হয় তবে আমরা চোখের পিউপিল যথাসম্ভব ছোট করে তাকাই যাতে সূর্যের তীব্র আলো তেমন একটা যেন চোখের পিউপিলের(চোখের মনি) মধ্য দিয়ে না ডুকে।

কিন্তু সূর্যগ্রহণের দিন আমরা তার উল্টাটা করি। মানে?

সূর্যগ্রহণের দিন আমরা সূর্যের গ্রহণ হওয়া রূপ দেখতে অনেক উৎসুক থাকি।ফলে সারাবছর মিলে সূর্যের দিকে যতটা বার না সরাসরি তাকিয়েছেন তারচেয়েও বেশি সংখ্যকবার আমরা সেদিন সূর্যের দিকে তাকিয়ে থাকি।কখন গ্রহণ শুরু হবে,কখন first touch,কখন last touch, কখন full touch,কখন রিং তৈরি হবে,কখন বেইলির হার,ডায়মন্ড রিং ,, সূর্যগ্রহণের ইত্যাদি বিভিন্ন মুহূর্তের সাক্ষী হতে আমরা উদগ্রীব থাকি। ফলে ঘনঘনই সূর্যের দিকে সরাসরি তাকাই।শুধু তাকাই না চোখের পিউপিল যথাসম্ভব বড় করে তাকায় যাতে পরিষ্কারভাবে সূর্য গ্রহণের সৌন্দর্য অবলোকন করতে পারি।মরার উপর খাড়া ঘা আর কি!


কেন পিউপিল বড় হয়?


আমরা জানি,সামান্য আলোতে যেমন সন্ধ্যা বা রাতের দিকে আমাদের পিউপিল বড় হয়ে যায় যাতে বেশি আলো প্রবেশ করাতে পারে(দেখতে সহায়তা করে যা)।


https://www.medicalnewstoday.com/articles/dilated-pupils-meaning


বেশি আলোতে আমাদের চোখের পিউপিল সংকুচিত হয়ে যায় কারণ যাতে তখন তেমন বেশি আলো ডুকতে না পারে এবং ক্ষতি করতে না পারে।

আর সূর্য গ্রহণের সময় চাঁদ যখন সূর্যকে ঢেকে দেয় তখন অন্ধকার হওয়ায় কম আলোতে আমাদের চোখের পিউপিল dialate বা বড় হয়ে যায় যার ফলে তা বেশি সূর্যের আলো প্রবেশ করানোতে সহায়ক।

https://wonderopolis.org/wonder/why-cant-you-look-directly-at-the-sun


https://www.djo.org.in/printerfriendly.aspx?id=222


http://www.ayubmed.edu.pk/JAMC/PAST/14-4/AzizAwan.htm/



এমনেতেই সরাসরি তাকিয়ে আছেন তার উপর আবার চোখের মনি বড় বড় করে তাকিয়ে থাকেন।ফলে এত সময়ব্যাপী তাকানোর কারণে এবং চোখের মনি বড় করায় বেশি পরিমাণ তীব্র সূর্যের আলো চোখের লেন্স পেরিয়ে চোখের পেছনে রেটিনাতে গিয়ে আঘাত করে। 

আমরা জানি রেটিনা হলো 

চোখের আলোক সংবেদী অংশ। এটা আলোকরশ্মিকে তড়িৎ সংকেতে (electrical signal) রূপান্তর করে দর্শন স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পাঠায়। রেটিনায় দুই ধরনের আলোকসংবেদী কোষ (photoreceptor) থাকে। এরা হল – রডকোষ (rod) এবং কোন্‌ কোষ (cone)। রডকোষ আবছা/মৃদু আলোতে দেখতে সাহায্য করে, আর কোন্‌ কোষ স্বভাবিক/উজ্জ্বল আলোতে দেখতে সাহায্য করে। কোন্‌ কোষ থাকার জন্য আমরা বিভিন্ন রং চিনতে পারি এবং তাদের মধ্যে পার্থক্য করতে পারি। অর্থাৎ আমাদের রঙিন বস্তু দর্শনে কোন্‌ কোষগুলো দায়ী।


এই ড্যামেজটা সাধারণত

রেটিনার ফোভিয়াতে বেশিরভাগ ঘটে থাকে।এই 

ফোভিয়া, যা ফোভিয়া সেন্ট্রালিস নামেও পরিচিত। চোখের রেটিনায়  ম্যাকুলা অংশে এর অবস্থান। ম্যাকুলার মাঝে এর অবস্থান।

চিত্রে দেখুন।


বইপড়া, গাড়ি চালনা করা, ইত্যাদি কাজে যে তীক্ষ্ণদৃষ্টির প্রয়োজন, সেসব কাজে ফোভিয়া ব্যবহৃত হয়।ফোভিয়ার আকার রেটিনার বাকি অংশের তুলনায় খুবই অল্প। 

এখন এটাই যদি ড্যামেজ হয়ে যায় তবে ত বুঝতেই পারছেন।


আমরা জানি স্বাভাবিক চোখে আলোকরশ্মি রেটিনাতেই সর্বশেষে পতিত হয়  এবং রেটিনাতে থাকা রড ও 'কোন' কোষ হলো আলোক সংবেদন গ্রহণকারী কোষ।এখন এই আলোক সংবেদী কোষ যদি অধিক সূর্যালোকের কারণে কোনোভাবে burn হয়ে ড্যামেজ হয়ে যায় তবে কিন্তু মহা সমস্যা।হয়তো বেশি সিরিয়াস হলে অন্ধ হয়েও যেতে পারেন


 


সূর্যগ্রহণের সময় সূর্যের দিকে সরাসরি,চোখের মনি বড় করে এবং ঘন ঘন তাকানোটাই ক্ষতির কারণ এবং এখানেই মূল ভয়।

আবার মনে করেন সূর্যকে পূর্ন গ্রাস করে ফেললো তখন ত আপনি নিশ্চিত মনে সূর্যের দিকে তাকাতে চাইবেন কারণ তখন ত আর সূর্যের আলো নেই।কিন্তু সাবধান। পূর্ণগ্রাসের সময় সূর্যের দিকে তাকানো ক্ষতিকর না তেমন কারণ তখন সূর্যের আলো চাঁদের পেছনে পুরোপুরি ঢাকা থাকে। তবে চাঁদ কিন্তু সূর্যের আলো বেশিক্ষণ ঢেকে রাখতে পারেনা মানে বেশি সময় নিয়ে সূর্যকে নিজের আড়ালে ঢেকে  রাখতে পারেনা।পূর্নগ্রাস বেশিক্ষণ স্থায়ীও হয় না।ফলে যে কোনো সময় চাঁদের পৃষ্ঠ ভেদ করে সূর্যের তীব্র আলোক ছটা আপনার চোখে সরাসরি আঘাত করতে পারে।

তাছাড়া চাঁদের পৃষ্ঠ পুরোপুরি মসৃণ না বরং বন্ধুর। ফলে চাঁদের ফাঁকফোঁক দিয়ে সূর্যের আলো কিছুটা হলেও পৃৃথিবীতে আসে।আর সে আলো যদি আপনার চোখে সরাসরি পতিত হয় তবেও তাতে চোখের রেটিনা ড্যামেজের সম্ভাবনা আছে। 

আর গ্রহন শেষে  হুট করে সূর্যের আলো দেখার জন্যে আমরা রেডি থাকিনা ফলে হুট করে আগত সূর্যের আলোকে চোখ হুট করে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারে না যা সূর্য গ্রহণের দিনে চোখের ড্যামেজের ভয়ের আরেকটি কারণ।আর গ্রহণের শেষ দিকে চাঁদের উপর যখন আঙটির উপরে হীরের মত হয়ে সূর্যের আলোকে দেখা যায় তখন তা দেখতে সবাই মুখিয়ে থাকেন। আর তখনই কিন্তু সূর্যের আলো সরাসরি আপনার চোখে এসে পড়ে। গ্রহণে চাঁদ ৯৯ শতাংশ সূর্যকে ঢেকে ফেললেও অবশিষ্ট সূর্য রশ্মি চোখের ক্ষতি করার পক্ষে যথেষ্ট।


আর এসবই গ্রহণের দিনে ভয়ের কারণ।আর এসব কিছুর ভয় কিন্তু অন্যান্য দিনে থাকে না।কারণ অন্যান্য দিন আমরা এত সূর্যকে নিয়ে এত উৎসুক থাকিনা।


অন্যান্য দিনে না থাকে বাঁশ(উৎসাহ) আর না বাজে বাঁশি(ক্ষতি)


এসবের কারণে আপনার চোখে  'Eclipse Blindness' বা রেটিনোপ্যাথি সৃষ্টি হতে পারে।

(Solar retinopathy/ photic retinopathy/foveomacular retinitis/solar retinitis/ eclipse retinopathy)


(চিত্রে দেখুন)


তখন এতে আক্রান্তু হওয়ার প্রায় ১২-২৪ঘন্টা পর আপনার চোখে কোনোকিছুকে অস্পষ্ট লাগতে পারে,ব্ল্যাক স্পট সামনে প্রদর্শিত হতে পারে,চোখে ব্যথা করতে পারে।বইপত্র পড়তে সমস্যা হতে পারে।হালকা আলোর প্রতিও বেশি রিয়েকশন আসতে পারে।


এসব ভয় কিন্তু একবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

কারণ প্রমাণও আছে।কতগুলো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার পরিসংখ্যান দেওয়া কঠিন। কারন মানুষের চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার অনেক কারণ আছে।এখন আপনার যদি সূর্যের দিকে সরাসরি তাকানোর কারণে চোখে কোনো ক্ষতি হয়ে থাকে তবে সেটা পারফেক্টলি না ধরতেও পারেন।কারণ আরো ত কারণে এমন ক্ষতি হতে পারে।যাইহোক,গ্রহণ দেখার সাথে সাথে ক্ষতিও চিহ্নিত করা গেছে। ব্রিটেনে ১৯৯৯সালে সূর্যগ্রহণ ঘটার সময় চক্ষু রোগ চিকিৎসকরা প্রায় ৭০জনের চোখে eye injury ঘটার প্রমাণ পায় যাদের বেশিরভাগই কোনো ফিল্টার ছাড়া সরাসরি সূর্যগ্রহণ দেখেছিল।

কানাডায় ১৯৭৯ সালে এমন ২০টি case এর প্রমান আছে।আরো অনেক পরিসংখ্যান আপনি গুগল করলে পেয়ে যেতে পারেন।


https://www.google.com/amp/s/time.com/4890397/solar-eclipse-damage-eyes-protect/%3famp=true


খালি চোখে কয়েক সেকেন্ডের জন্য সূর্য গ্রহণ দেখলেও তা রেটিনার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে যার কারণে কেউ  দৃষ্টিশক্তিও হারাতে পারে।





২৮। চন্দ্রগ্রহণ সরাসরি দেখা ক্ষতিকর নয় কেন?

চন্দ্রগ্রহণ মানে চন্দ্রকে গ্রহণ।চন্দ্রকে কে গ্রহণ করে বা কার দ্বারা চন্দ্রগ্রহণ হয় বলেন ত?চন্দ্রগ্রহন হয় কখন বলেন ত?

চন্দ্রগ্রহন হয় চাঁদের  পূর্ণিমা দশাতে।পূর্ণিমার সময় চন্দ্রের যে গ্রহণ হয় তখন চন্দ্রের উল্টো দিকে সূর্য থাকে।মানে চাঁদ যদি পূর্বে থাকে তবে সূর্য থাকে পশ্চিম দিকে।সূর্যগ্রহণ হওয়ার সময় চাঁদ গ্রহণ থেকে বেরিয়ে গেলেই সূর্যের আলো আমাদের চোখে এসে পড়ে।কারণ চাঁদ আর সূর্য একইপাশে থাকে।ফলে চাঁদ সূর্যকে গ্রহণ ছেড়ে দিলেই চাঁদের পাশ থেকে তীব্র সৌরকিরণ আমাদের চোখে আসে। কিন্তু চন্দ্রগ্রহণের সময় এমন সম্ভাবনা নেই।চন্দ্রগ্রহনের সময় চাঁদের অপরপাশে ত আর সূর্য থাকে না।ফলে চাঁদের গ্রহণ শেষ হয়ে গেলেই যে সূর্যের আলো রাতে আমাদের  চোখে এসে পড়বে  এমন ত নয়। 

বরং ভরা পূর্ণিমার চাঁদের আলো চন্দ্রগ্রহনের ফলে আরো ম্লান হয়ে যায়।


 আর তখন থাকে রাত।রাতে আমরা ভরা পূর্ণিমায় ত হরহামেশাই তাকাই। তাতে ত কোনো ক্ষতি হয় না।তাহলে পূর্ণিমাহীন ম্লান চাঁদকে দেখলে ক্ষতি হবে কেন?




২৯। অমাবস্যা ও পূর্ণিমা কীঃ

(সংক্ষেপে)





চিত্র-১১


চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে তার নিজস্ব কক্ষে আবর্তন করছে। যখন চাঁদ পৃথিবীর চারপাশে আবর্তন করতে করতে সূর্যের যে পাশে পৃথিবী অবস্থিত ঠিক তার উল্টোপাশে অবস্থান করে - ফলে পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান চাঁদ এসময় সূর্য দ্বারা পূর্ণ আলোকিত হয় এবং চাঁদকে একটি পূর্ণ গোলাকার চাকতিরূপে দেখা যায়, তখনই পূর্ণিমা ঘটে। চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে একটি কক্ষে আবর্তন করছে। যখন চাঁদ আবর্তন করতে করতে পৃথিবী, সূর্যের যে পাশে অবস্থিত ঠিক তার উল্টোপাশে অবস্থান করে ফলে পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান চাঁদ এসময় সূর্য দ্বারা পূর্ণ আলোকিত হয় এবং চাঁদকে একটি পূর্ণ গোলাকার চাকতিরূপে দেখা যায়, তখনই পূর্ণিমা ঘটে। 

চিত্র-১২


রাতের আকাশে পৃথিবী থেকে দেখতে চাঁদের পুরোটাকে যখন আলোকিত মনে হয় তাকেই আমরা বলি পূর্ণিমা, পূর্ণ চন্দ্র বা ফুল মুন (full moon)।জ্যোতির্বিদ্যা অনুসারে, অমাবস্যা হচ্ছে চন্দ্রকলার প্রথম ধাপ। এটি মূলত সেই সময় যখন চাঁদ ও সূর্য প্রায় একই বরাবর থাকে।তবে গ্রহণের সময় যতটা পারফেক্টলি একই বরাবর থাকে অতটা পারফেক্টলি একই বরাবর থাকে না।

যদিও এই সময়টায় চাঁদকে খালি চোখে দেখা যায় না তবুও এই দশাটিতে চাঁদ খুব চিকন ক্রিসেন্টরূপে বিরাজমান থাকে।কারণ, সূর্যগ্রহণ ছাড়া বাকী সময় চাঁদ সূর্যকে সরাসরি সম্পূর্ণরূপে অতিক্রম করে না।




চিত্র-১৩


পৃথিবীর আবর্তনের জন্যে চন্দ্র, সূর্য ও রাতের নক্ষত্রদের পূর্ব থেকে পশ্চিমে যেতে দেখা যায়।

 চাঁদ আবার পৃথিবীকে কেন্দ্র করেও ঘুরছে। ফলে অন্য গ্রহ নক্ষত্রদের চেয়ে প্রতি দিনে ও  রাতে এর অবস্থান পরিবর্তন হয় তুলনামূলক অনেক বেশি।  

পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে করতে একটা সময় চন্দ্র, পৃথিবী ও সূর্যের সাথে প্রায় একই রেখায় চলে আসে। আর এই কল্পিত রেখার মাঝখানে যখন পৃথিবী থাকে, তখনই পশ্চিম দিক থেকে আসা সূর্যের আলো সোজাভাবে পূর্ব দিকে থাকা চাঁদের উপর গিয়ে পড়ে। ফলে, পৃথিবী থেকে দেখতে চাঁদের পুরোভাগ আলোকিত হয়ে থালার মতো দেখা যায়।


এ সময় চাঁদ দিগন্তের খানিকটা মাত্র উপরে থাকে। সূর্য যখন দিগন্ত থেকে আরো বেশি নিচে নেমে যায়, তখন পূর্ব দিকে চাঁদও দিগন্তের আরো  উপরে উঠে আসে। এভাবে সারা রাত চলে ভোরের যখন সূর্যোদয় ঘটে চাঁদ তখন পশ্চিম দিগন্ত দিয়ে অস্ত যায়।


সংক্ষেপে এটাই হলো পূর্ণিমা হবার কারণ। কিন্তু প্রশ্ন করা যায়, সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণের সময়ওতো চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই রেখায় থাকে। তাহলে প্রতিটা পূর্ণিমাতেই কেন চন্দ্রগ্রহণ হ।য় না?

এটা ঠিক যে, চন্দ্রগ্রহণ একমাত্র পূর্ণিমার সময়েই ঘটতে পারে। আবার সূর্যগ্রহণও হতে পারে যখন এই তিন বস্তু একই রেখায় থাকে এবং এই তিনের  মাঝখানে যদি চাঁদ থাকে।তখন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝে এসে সূর্যকে ঢেকে দিবে।তখন চাঁদকে অন্ধকারাচ্ছন্ন আকারে দেখবে।পৃথিবীর দিকে চাঁদের যে মুখ বা পাশ তাক করে আছে সে দিকটজ সূর্যের পুরো উল্টা দিকে হওয়ায় সেইপাশে সূর্যের কোনো আলো পড়বে না। ফলে আলো না পড়ায় কোনো আলো তাতে প্রতিফলিত হয়ে পৃথিবীতে আসবে না।ফলে তখন চাঁদকে অন্ধকারাবৃত দেখা যাবে।

যেমন অন্ধকার ঘরে একটি ফুটবলের একপাশে টর্চ লাইট রেখে যদি ফুটবলের উপর আলো ফেলেন তবে আপনি সে ফুটবলের একপাশেই কিন্তু আলো ফেলতে পারবেন এবং অপর পাশে আলো না পড়ায় অপরপাশে অন্ধকার রয়ে যাবেে।


চিত্র-১৪

অমাবস্যার সময় এমনটাই ঘটে।সূর্যের বিপরীত দিকে বা পৃথিবীর দিকে যে অংশটা মুখ করে থাকে সে অংশটা অন্ধকার থাকে এবং অপর উল্টো দিকে সূর্যের আলো পড়ায় অপর পাশ আলোকিত থাকে বাট সেই আলোকিত অপর পাশ ত আর পৃথিবীর দিকে মুখ করে থাকে না।আমরা সবসময় পৃৃথিবীর দিকে মুখ করে থাকা অংশটাই দেখতে পাই।মানে সবসময় চাঁদের একপাশই দেখতে পাই।

ফলে অমাবস্যার সময় সূর্যের দিকে তাক করে থাকা চাঁদের অংশ আলোকিত হলেও তা আমরা 

দেখতে পারি না।আমরা শুধু পৃৃথিবীর দিকে তাক করে থাকা আলোকহীন পাশটাই দেখতে পাই।

অমাবস্যা: যখন চাঁদ আবর্তন করতে করতে পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে পরে তখন চাঁদের যে পিঠ আলোকিত তা দেখা যায় না এবং চাঁদের অন্ধকারের দিকটা আমাদের চোখেক পড়ে, তখনই অমাবস্যা ঘটে।


চিত্র-১৫


পৃথিবীর আহ্নিক গতীর কারণে এবং চাঁদ পৃথিবীকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণ করার প্রতি ৩০ দিনে চাঁদ এবং সূর্য পৃথিবীকে মাঝে রেখে এমন ভাবে সমান্তরালে অবস্থান করে যে, সূর্যের আলো চাঁদের উপর পরতে পারে না, যার ফলে চাঁদ সম্পূর্ণ অন্ধকার থাকায় পৃথিবী থেকে দেখা যায় না।


চাঁদ থেকে কোন আলো প্রতিফলিত না হওয়ায় অন্ধকার পৃথিবীকে রাতে আরো বেশি অন্ধকার মনে হয়, সেই সময়টাকে অমাবস্যা বলে। 


চিত্র-১৬


৩০। প্রতি পূর্ণিমায় কেন চন্দ্রগ্রহণ ঘটে না?-

প্রতি পূর্ণিমায় সূর্য ও চাঁদের মাঝে পৃথিবী অবস্থান করে। তাহলে ত প্রতি  পূর্ণিমায় পৃথিবীর ছায়া দ্বারা চাঁদকে ঢেকে দেওয়ার কথা বা চন্দ্রগ্রহণ হওয়ার কথা।কিন্তু প্রতি পূর্ণিমাতে চন্দ্রগ্রহণ হয়না কেন?

বছরে ১২টি চন্দ্রগ্রহণ হয় না কেন?

এ প্রশ্নের উত্তর আর উপরের প্রতি অমাবস্যায় কেন সূর্যগ্রহণ হয় না সে প্রশ্নের উত্তরের ব্যাখ্যা প্রায় একই।

সাধারণ অমাবস্যায় চাঁদ, সূর্য, পৃথিবী পুরোপুরি পারফেক্টলি সরলরেখায়,সমতলে যেমন অবস্থান নেয় না বরং একটু উপরে বা নিচে অবস্থান নেয় তেমনি সাধারণ পূর্ণিমাতেও চাঁদ, সূর্য,পৃথিবী পারফেক্টলি সরলরেখায়,সমতলে  থাকে না বরং পূর্ণিমার মত চাঁদ পৃৃথিবীর কক্ষতল থেকে একটু উপরে বা নিচে অবস্থান নেয়।


আর যে পূর্ণিমায় পৃৃথিবী, সূর্য,চাঁদ একই বরাবর সরলরেখায়, পৃৃথিবীর কক্ষতলের সমতলে অবস্থান নেয় এবং সূর্য ও চাঁদের মাঝে পৃৃথিবী অবস্থান নেয় -তখনই সে পূর্ণিমায় চন্দ্রগ্রহণ ঘটবে।ভরা পূর্ণিমা রাতে হঠাৎ চাঁদ পৃৃথিবীর ছায়ায় আংশিক বা পূর্ণভাবে ঢাকা পড়ে যাবে যা চন্দ্রগ্রহণ নামে পরিচিত।তারমানে চন্দ্রগ্রহণ কেবল পূর্ণিমাতেই ঘটে থাকে তবে সকল পূর্ণিমাতে নয় কিন্তু।


চিত্র ২৫--পূর্ণিমা হচ্ছে কিন্তু চন্দ্রগ্রহন হচ্ছে না।





চিত্র-২৬ পূর্ণিমা দশায় চন্দ্রগ্রহন হচ্ছে।


আর যে অমাবস্যায় 

পৃৃথিবী, সূর্য,চাঁদ একই বরাবর সরলরেখায়, পৃৃথিবীর কক্ষতলের সমতলে অবস্থান নেয় এবং সূর্য ও পৃৃথিবীর মাঝে চাঁদ অবস্থান নেয় -তখনই সে অমাবস্যায় সূর্যগ্রহণ ঘটবে।দিনের প্রজ্জ্বলিত সূর্যটা আস্তে আস্তে চাঁদ তার উপর দিয়ে যাওয়ায় সূর্যটা ঢাকা পড়বে,সূর্যের ঢাকা পড়া অংশ দিয়ে সূর্যের আলো পৃৃথিবীতে পৌঁছতে পারবে না, চাঁদের তিনপ্রকারের ছায়া পৃৃথিবীর একেক অংশে পড়বে। কখনো সূর্য আংশিক ঢাকা পড়বে,কখনো পূর্ণভাবে ঢাকা পড়ে যাবে বা কখনো চাঁদ এসে সূর্যের ভেতরে অবস্থান করবে,পুরো সূর্যটা ঢেকে দিকে পারবে না,চারপাশে একটু করে ফাঁকা থাকবে যা রিং অফ ফায়ার মনে হবে(বলয়গ্রাস)।

যাইহোক,তারমানে সূর্যগ্রহণ কেবল অমাবস্যাতেই ঘটে থাকে তবে সকল অমাবস্যাতে নয় কিন্তু।



সূর্যগ্রহণের যেমন বিভিন্ন প্রকার আছে তেমনি চন্দ্রগ্রহণেরও বিভিন্ন  প্রকার আছে।পৃথিবীর ছায়া চাঁদের কতটুকু ঢাকতে পারলো সে হিসেবে চন্দ্রগ্রহণও বিভিন্ন প্রকার হয়।




৩১। পূর্ণিমায় কেন শুধু চন্দ্রগ্রহণ ঘটে?


পূর্ণিমায় কেবলমাত্র চন্দ্রগ্রহন ঘটে। কারণ কেবল পূর্নিমাতেই সূর্য ও চাঁদের মাঝে পৃথিবী এসে অবস্থান নেয়। আর সূর্য ও চাঁদের মাঝে পৃথিবীর অবস্থান থাকা চন্দ্রগ্রহণ হওয়ার এক নম্বর শর্ত।তাই পূর্ণিমাতেই সূর্যগ্রহন ঘটে।পূর্ণিমায় সূর্য ও চাঁদের মাঝে পৃথিবী থাকে। ফলে পৃৃথিবীর দিকে চাঁদের যে অংশটা থাকে সে অংশটা সূর্যের বিপরীতে থাকায় সূর্যের আলো দ্বারা চাঁদের সে অংশটা পুরোপুরি আলোকিত হওয়ায় সে অংশটা উজ্জ্বলভাবে কিরণ দেয়।ফলে রাতের আকাশ পূর্ণিমার আলোয় আলোকিত থাকে

যা পূর্ণিমা নামে পরিচিত। তবে কোনো কোনো পূর্ণিমাতে চন্দ্রগ্রহণ ঘটে। তখন আর সে ভরা পূর্ণিমা চাঁদকে দেখা যায় না।তার বদলে পৃৃথিবীর ছায়া চাঁদকে গ্রাস করে নেয়।ফলে চন্দ্রগ্রহণের সময় ভরা পূর্ণিমার রাতে অন্ধকার নেমে আসে।

তবে সকল পূর্ণিমাতে আবার চন্দ্রগ্রহন ঘটবে না।কেন ঘটবে না তা নিচে আলোচিত হয়েছে।

তো,যাইহোক সকল চন্দ্রগ্রহনই পূর্ণিমার সময় ঘটে থাকে কিন্তু সকল পূর্নিমায় চন্দ্রগ্রহন হয় না।




৩২। পূর্ণ সূর্যগ্রহণকে বলয় গ্রাস আকারে দেখা সম্ভব কীভাবে?


Umbra থেকে পিছিয়ে  যতই Antumbra  এর দিকে  যাবেন ততই পূর্ণগ্রাস হওয়া  সূর্যের চারপাশের গোলাকার সীমানা পেরিয়ে আলো দৃশ্যমান হতে শুরু হবে। বা, চাঁদের দ্বারা   সূর্যকে পূর্ণভাবে ঢেকে দেওয়ার প্রবণতা কমে যাবে/ চাঁদ সূর্যকে সম্পূর্ণভাবে ঢাকতে পারেনি মনে হবে।কারণ আপনি দূরে সরে গেছেন ফলে চাঁদ ছোট হয়ে যাচ্ছে।ফলে ছোট চাঁদ দ্বারা তখন আর ঢেকে দেওয়া সম্ভব হবে না

 ।মানে পূর্ণগ্রাস হওয়া সূর্যকে তখন বলয়গ্রাস সূর্যহগ্রহণ আকারে দেখা দিবে।মানে সূর্যের চারপাশে গোলাকার আলোর বলয়(রিং অফ ফায়ার) দৃশ্যমান হবে।

ধরেন আপনি পৃথিবীপৃষ্ঠে আছেন যেখানে পূর্ণগ্রাস দেখা যাচ্ছে আর এখন যদি আপনি মাটি খুঁড়ে মাটির অনেক ভেতরে যেখানে আন্টামব্রা তৈরি হয়েছে সেখানে যদি যান তবে সেখান থেকে একই সূর্যগ্রহণ যাকে পূর্ণগ্রাস আকারে দেখেছিলেন তাকে বলয়গ্রাস আকারে দেখবেন

চিত্রে দেখুন-আন্টাম্ব্রা ভূপৃষ্ঠের ভেতরে তৈরি হয়েছে।



Antumbra সীমানায় যারা অবস্থান করে তাদের কাছে সূর্য কেমন দৃশ্যমান হয়>



৩৩। পূর্ণগ্রাস কেন এত কম অঞ্চলে হয় এবং কেন এত রেয়ার?

চাঁদ ছোট হওয়ায় চাঁদের প্রচ্ছায়া ছোট হয় বিধায় চাঁদের প্রচ্ছায়া দ্বারা সৃষ্ট পূর্ণ সূর্যগ্রাস পৃৃথিবীর খুব কম অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যে জুটে। আর উপচ্ছায়া যেহেতু অনেক অঞ্চলব্যাপী সৃষ্টি হয় সে কারণে চাঁদের উপচ্ছায়া দ্বারা সৃষ্ট আংশিক সূর্যগ্রহণের অভিজ্ঞতা পৃৃথিবীর বেশিরভাগ অঞ্চলের মানুষ পেয়ে থাকে।

আর পূর্ণগ্রাস হতে হলে চাঁদকে পৃৃথিবীর যথেষ্ট কাছে থাকতে হয় যেন বড় চাঁদ সহজেই সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দিতে পারে।আবার শুধু চাঁদ পৃৃথিবীর তুলনামূলক কাছে থাকলেই হবে না -চাঁদ, পৃথিবী,সূর্য একই সরলরেখায়, সমতলে থাকতে হবে।

এ দুটো একসাথে খুব কমই ঘটে প্রকৃতিতে ফলে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ খুব রেয়ার এবং আংশিক গ্রাস খুব কমন। তবে পূর্ণগ্রাসের চেয়েও রেয়ার হলো হাইব্রিড সূর্যগ্রহণ। সেটা নিয়ে পরে আলোচনা আসতেছে।কেন রেয়ার সেটা নিয়ে পরে আলোচনা আসতেছে।

চাঁদ গ্রহণের সময় যত পৃৃথিবীর কাছে থাকবে বা পৃথিবী যত চাঁদের কাছে থাকবে চাঁদকে তত বড় দেখা যাবে এবং চাঁদের দ্বারা সৃষ্ট প্রচ্ছায়াও তত পৃৃথিবীর বৃহৎ অঞ্চলব্যাপী অবস্থান নিবে। প্রচ্ছায়া যত বৃহৎ অঞ্চলব্যাপী অবস্থান নিবে তত বেশি অঞ্চলের মানুষ চাঁদের দ্বারা পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখতে পারবে।


উপরের চিত্র-১৭ তে কম অঞ্চলব্যাপী পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। (Umbra এর শীর্ষকোণ দেখুন কত চিকন)


উপরের চিত্র-১৮ তে বেশি  অঞ্চলব্যাপী পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। (Umbra এর শীর্ষকোণ দেখুন উপরেরটার চেয়ে প্রশস্ত) 


৩৪। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের স্থায়িত্ব একেকসময় একেকরকম হয়  কেন?কখনো কম, কখনো বেশি কেন?



পূর্ণগ্রাস হতে চাইলে চাঁদকে নূন্যতম দূরত্বে থাকতে হয় তা নাহলে চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দিতে পারে না।তবে অনেকসময় চাঁদ নূন্যতম দূরত্ব বজায় রেখেও আরো কম বেশি দূরত্ব বজায় রাখে।

যেমন ধরেন চাঁদ সূর্যাে গ্রহণ করার মত কৌণিক অবস্থানে আছে এবং পূর্ণগ্রাস হতে চাইলে চাঁদকে ধরেন পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ  ৩.৭লক্ষ কিলোমিটার দূরে থাকতে হবে।৩.৭লক্ষ কিলোমিটার হলো সর্বোচ্চ দূরত্ব। এর কম দূরত্বে মানে ৩.৭লক্ষ কিমি এর কম দূরত্বে চাঁদ  যথাযথ কৌণিক অবস্থান নিয়ে থাকলেও চাঁদ পূর্নগ্রাস সূর্যগ্রহণ ঘটাতে পারবে কিন্তু 


যদি ৩.৭লক্ষ কিলোমিটারর বেশি ৩.৭১লক্ষ কিমি বা এর বেশি দূরে চলে যায় তবে আর তখন সূর্যের পূর্ণগ্রাস হবে না, বরং বলয়গ্রাস হবে।কারণ চাঁদ দূরে গিয়ে ছোট হয়ে গেছে এবং চাঁদের দ্বারা আর সূর্যকে ঢাকা সম্ভব হচ্ছে না।ফলে তখন চাঁদের চারপাশে বলয় বা রিং অফ ফায়ার দেখা যাবে।

মানে ৩.৭ লক্ষকিমি এর কম দূরত্বে থাকলে পূর্ণগ্রাস হওয়াতে সমস্যা নেই কিন্তু এর বেশি দূরে থাকলেই আর পূর্ণগ্রাস হবে না।কারণ ৩.৭লক্ষ কিমি ই হলো পূর্ণগ্রাস হওয়ার জন্যে সর্বোচ্চ দূরত্ব।


এতটুকু মানে 3.7লক্ষ কিলোমি. দূরে থাকলেই চাঁদ সূর্যকে ধরেন সর্বনিম্ন ৭মিনিট ৫সেকেন্ড সময়ব্যাপী তার আড়ালে পূর্ণভাবে রাখতে পারবে বা পূর্নগ্রাস করতে পারবে।

এখন ধরেন চাঁদ 3.4লক্ষ কিলোমিটার সরে গিয়ে গ্রহণের উপযুক্ত অবস্থানে থাকে তাহলে যেহেতু এখন চাঁদ- পৃৃথিবীর আরো  কাছে চলে গেল তাই পৃথিবী থেকে তাই চাঁদকে আগের চেয়ে একটু বড় মনে হবে। ফলে তুলনামূলক বড় চাঁদের পক্ষে সূর্যকে ৭মিনিট ৫ সেকেন্ডের চেয়েও বেশি সময় নিয়ে নিজের সম্পূর্ণ আড়ালে রাখা বা পূর্ণভাবে গ্রাস করা সম্ভব হবে।ফলে তখন আগের ৭মিনিট ৫সেকেন্ডের চেয়েও বেশি সময়ব্যাপী পূর্ণগ্রাস হবে।

হতে পারে তা ৭মিনিট ২০ সেকেন্ড বা তার বেশি।

আবার ধরেন, সে চাঁদটি পৃথিবী থেকে কখনো  3.4

লক্ষ কিমি দূরে নয় বরং ৩.৬কিমি দূরে।বলেন ত, এখন পূর্নগ্রাস কত সময়ব্যাপী হতে পারে?


ক)৭মিনিট ২০সেকেন্ডের কম?

খ)৭মিনিট ২০সেকেন্ডের বেশি?

কোনটা?

--উত্তর :ক)৭মিনিট ২০সেকেন্ডের কম।

কারণ আগে যেখানে 3.4লক্ষ কিমির মত কাছে ছিলো তখনই পূর্ণগ্রাসের স্থায়িত্ব ছিলো ৭মিনিট ২০সেকেন্ড।

আর এখন চাঁদ পৃথিবী থেকে  3.4লক্ষ কিমির চেয়েও বেশি দূরে 

মানে 3.6লক্ষ কিমি দূরে চলে গেছে।তাই স্বাভাবিকভাবেই দূরে যাওয়া চাঁদ একটু আগের 3.4লক্ষ কিমির এর তুলনায ছোট হয়ে যাওয়ায় তখন মানে 3.6লক্ষ কিমি দূরে চাঁদ অবস্থান করলে পূর্ণগ্রাসের পরিমাণ আগের ৭মিনিট ২০সেকেন্ডের চেয়ে কমে যাবে।হতে পারে তখন তা ৭মিনিট ১০সেকেন্ড বা তার একটু কম বেশি কিন্তু ৭মিনিট ৫সেকেন্ড বা ৭মিনিট ২০সেকেন্ড নয়।

 তারমানে চাঁদের দূরত্বের উপর পূর্ণগ্রাস গ্রহণের স্থায়িত্ব নির্ভর করে থাকে। নূন্যতম দূরত্ব ও গ্রহণের কৌনিক অবস্থান বজায় রেখে চাঁদ যত পৃৃথিবীর কাছে থাকবে 

-তত বেশি চাঁদকে বড় দেখাবে, 

-তত বেশি জায়গা নিয়ে  ভূপৃষ্ঠের উপর প্রচ্ছায়া সৃষ্টি হবে,

-তত বেশি সময়ব্যাপী সূর্যের পূর্ণগ্রাস হবে,

-ততবেশি অঞ্চলব্যাপী পৃৃথিবীর মানুষ পূর্ণগ্রাসের অভিজ্ঞতা নিতে পারবে এবং


 বিপরীতভাবে চাঁদ নূন্যতম দূরত্ব ও কৌণিক অবস্থান  বজায় রেখে চাঁদ যত পৃৃথিবীর দূরে থাকবে  

-তত কম চাঁদকে বড় দেখাবে,

-তত কম জায়গা নিয়ে ভূপৃষ্ঠের উপর প্রচ্ছায়া সৃষ্টি হবে।

-তত কম সময়ব্যাপী সূর্যের পূর্ণগ্রাস হবে,

-পৃথিবীতে তত কম অঞ্চলব্যাপী অঞ্চলের মানুষ পূর্ণগ্রাসের অভিজ্ঞতা নিতে পারবে।



 

 চাঁদ যত আমাদের কাছে থাকবে বা আমরা যত চাঁদের কাছে থাকবো তত চাঁদকে বড় দেখাবে, তত চাঁদ সূর্যকে বেশি করে ঢেকে দিতে সক্ষম হবে,তত বেশি পূর্ণগ্রাস হবে, তত বেশি সময়ব্যাপী পূর্ণগ্রাস হবে।


আর চাঁদ যদি কম কাছে হয়(বাট পূর্নগ্রাস হওয়ার নূন্যতম  দূরত্বে আছে) তবে চাঁদকে একটু ছোট দেখাবে তুলনামূলকভাবে,তত চাঁদের দ্বারা সূর্যকে ঢেকে দেওয়ার হার কমে যাবে এবং কম সময়ব্যাপী পূর্ণগ্রাস হবে।তারমানে বেশি সময়ব্যাপী পূর্ণগ্রাস হতে চাইলে চাঁদকে বেশি কাছে থাকতে হবে এবং কম সময়ব্যাপী পূর্ণগ্রাস মানে চাঁদ পূর্ণগ্রাস হওয়ার মতই কাছে তবে অতটা কাছে নয় ফলে চাঁদ অতটা কাছে না হওয়ায় চাঁদ একটু তুলনামূলক ছোট হওয়ায় চাঁদ তার ছোট আয়তন দ্বারা বেশিক্ষণ পেছনের সূর্যকে ঢেকে রাখতে পারে না।ফলে হালকা সময় পূর্ণভাবে সূর্যকে ঢেকে রেখেই বা গ্রাস করেই একটু পরেই খুলে যায়।




 

গ্রহণের চিত্রে লক্ষ্য করে দেখুন। দেখা যাবে- চাঁদ এর অবস্থানের কারনে পৃথিবীতে একটি ধূসর ছায়া পড়েছে,বৈজ্ঞানিক ভাষায় এর নাম প্রচ্ছায়া বা Umbra। মূলত এই অঞ্চল থেকেই গ্রহনটি পরিষ্কারভাবে দেখা যায়।বড় ধূসর ছায়াযুক্ত অঞ্চলটিকে বলা হয় penumbra(উপচ্ছায়া) 

আর Umbra এর বিপরীতে রয়েছে বিপরীত  umbra বা Antumbra.বিপরীত প্রচ্ছায়া থেকে বলয়গ্রাস দেখা যাবে।




৩৫। ছায়ার পার্থক্য কীভাবে পূর্ণগ্রাস ও বলয়গ্রাস গ্রহণ সৃষ্টি করে?


 প্রচ্ছায়া যদি পৃৃথিবীর ভূপৃষ্ঠে গঠিত না হয়ে পৃৃথিবীর উপরে মহাকাশের ফাঁকা স্থানে গঠিত হয় তবে আমরা পূর্ণগ্রাস দেখতে পারবো না,,তখন ভূপৃষ্ঠে অবস্থানকারী আমাদেরকে বলয়গ্রাস দেখতে হবে।কারণ ভূপৃষ্ঠে প্রচ্ছায়া সৃষ্টি না হয়ে তখন ভূপৃষ্ঠের উপরে মহাকাশে প্রচ্ছায়া(umbra)সৃষ্টি হবে এবং পৃৃথিবীর ভূপৃষ্ঠে তখন বিপরীত প্রচ্ছায়া(Antumbra) সৃষ্টি হবে।

প্রচ্ছায়ার সবচেয়ে শীর্ষ কোণ যেখানে থাকে সেখানেই প্রচ্ছায়ার সীমানা শেষ এবং সেখান থেকেই বিপরীত প্রচ্ছায়ার (Antumbra) সীমানা শুরু।



চিত্র১৯,২০-প্রচ্ছায়া পৃৃথিবীর উপরে এবং বিপরীত প্রচ্ছায়া ভূপৃষ্ঠে সৃষ্টি ও বলয়গ্রাস সৃষ্টি




৩৬। বলয়গ্রাস কখনো কয়েকটি অঞ্চলগুলোতে বা কখনো অনেকগুলো অঞ্চলগুলোতে  দৃশ্যমান  হয় কেন?


অনেক সময় আমরা শুনি ৫০টি জায়গা থেকে এবারের বলয়গ্রাস দেখা যাবে আবার কখনো শুনি ২০টি  জায়গা থেকে বলয়গ্রাস 

দেখা যাবে-এমন একেকসময় একেকরকম  কেন?


আমরা জানি চাঁদের দ্বারা সৃষ্ট বিপরীত প্রচ্ছায়া(Antumbra)যে অঞ্চলগুলোতে পতিত হয় সেসব অঞ্চলের মানুষ বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখে থাকে।

চাঁদ যখন পূর্ণগ্রাস গ্রহণ হওয়ার মত নূন্যতম দূরত্বে না থেকে বরং বেশ দূরে থাকে তখন এই বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ সৃষ্টি হয়।দূরে থাকায় চাঁদকে আরো ছোট দেখায় এবং চাঁদের প্রচ্ছায়া ভূপৃষ্ঠে গঠিত না হয়ে ভূপৃষ্ঠের উপরে মহাকাশে গঠিত হয় এবং প্রচ্ছায়ার নিচে কিছু অঞ্চলব্যাপী বিপরীত প্রচ্ছায়া(Antumbra) সৃষ্টি হয়।বিপরীত প্রচ্ছায়া পৃৃথিবীর যত বেশি অঞ্চলব্যাপী অবস্থান নিবে ততবেশি অঞ্চলের মানুষ বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখতে পারবে।চাঁদ যত দূরে থেকে গ্রহণের উপযোগী  কৌণিক অবস্থানে থাকবে ততবেশি উপরে মহাকাশে প্রচ্ছায়া সৃষ্টি হবে এবং প্রচ্ছায়া যত উপরে সৃষ্টি হবে বিপরীত প্রচ্ছায়া ততবেশি পৃৃথিবীর বেশি অঞ্চলব্যাপী জায়গায় অবস্থান নিবে।তারমানে তত বেশি অঞ্চলব্যাপী বলয়গ্রাস দেখা যাবে।



তারমানে চাঁদ যত দূরে থাকবে ততবেশি অঞ্চলের মানুষ বলয়গ্রাস দেখতে পারবে এবং চাঁদ তত ছোট হবে,তত চাঁদের পক্ষে সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দেওয়ার হারও কমে যাবে।ফলে চাঁদ যত দূরে তত চাঁদ সূর্যকে পুরোপরি ঢাকতে পারবে না ফলে চাঁদের চারপাশে রিং বা গোলাকার ফাঁকা স্থান ততবেশি জায়গা নিয়ে থাকবে।  


চিত্র-২১ বেশি জায়গাজুড়ে Antumbra সৃষ্টি



চিত্র- ২২ কম জায়গাব্যাপী Antumbra সৃষ্টি

আর চাঁদ যত আমাদের কাছে থাকবে তত চাঁদকে বড় দেখাবে, তত চাঁদ সূর্যকে বেশি  ঢেকে দিতে পারবে,তত চাঁদের  চারপাশে রিং বা গোলকার ফাঁকা স্থান কম জায়গা নিবে এবং চাঁদ ততবেশি সূর্যকে ঢেকে দিতে সক্ষম হবে। 



৩৭। বলয়গ্রাসের আকৃতি দেখে কী কী নির্ণয় করা যেতে পারে?-

উপরের ব্যাখ্যা থেকে আমরা বলয়গ্রাসের সময় বলয়ের আকার,সাইজ তুলনা করে আমরা সহজেই বুঝতে পারি চাঁদ কি আগের বলয়গ্রাস গ্রহণের তুলনায় কাছে নাকি দূরে।

আরেকটা বিষয় জানতে পারলাম যতবেশি অঞ্চলব্যাপী বলয়গ্রাস হবে তখন আমরা বুঝবো -চাঁদ তুলনামূলক তত বেশি দূরে এবং

- চাঁদের দ্বারা সৃষ্ট প্রচ্ছায়া তত বেশি ভূপৃষ্ঠের উপরে,

-তত বেশি চাঁদটা ছোট দেখাবে। 


বিপরীতভাবেও একই। 


মানে বিপরীতভাবে

-যত কম অঞ্চলব্যাপী বলয় গ্রাস দেখা যাবে 

তখন আমরা বুঝবো

- চাঁদ তুলনামূলক তত বেশি কাছে এবং

- চাঁদের দ্বারা সৃষ্ট প্রচ্ছায়া তত ভূপৃষ্ঠের কাছে, -ততবেশি চাঁদকে তুলনামূলক বড় দেখাবে।



৩৮। Antrumbra কেন সবসময় গঠিত হয়না?

Antrambra সবসময়ই গঠিত হয় তবে সবসময় তা পৃথিবীতে গঠিত হয় না।চাঁদের একেক সময় একেক  দূরত্বে অবস্থানের কারণে  Antumbra এর ছায়া

সবসময় পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের উপর তৈরি হয় না/পতিত হয়না।

হয়তো দেখা যায়

১। কখনো পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের উপরে  তার ছায়া তৈরি হয়েছে। মানে, ভূপৃষ্ঠের উপরে 

Antrambra দ্বারা তৈরি হওয়া ছায়া/ছায়া অঞ্চল তৈরি/গঠিত হয়েছে(চিত্র 'ক') 


২।

বা, কখনো পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের ভেতরে( পৃথিবীর ভেতরে স্বচ্ছ মনে করে)

Antrambra দ্বারা তৈরি হওয়া ছায়া/ছায়া অঞ্চল তৈরি/গঠিত হয়েছে(চিত্র 'খ') 

৩।

 বা,পৃৃথিবী ছাড়িয়ে চাঁদের বিপরীতে মহাকাশে কোথাও।(চিত্র 'গ')


চিত্রে দেখুন একেকসময় একেক জায়গায় আন্টামব্রা তৈরি হয়েছে।


কেবলমাত্র কখনো যদি পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের উপরিতলে  Antrambraর ছায়া পতিত হয় বা গঠন হয় তবে তখনই  সে এলাকার অধিবাসীরা বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখতে পারবো কিন্তু সকল এলাকার অধিবাসীরা নয় ।Antumbraর ছায়ার সীমা ভৃপৃষ্ঠের উপরিতলে যতটুকু জায়গা দখল করে ঠিক অতটুকুর অধিবাসীরাই বলয়গ্রাস(রিং অফ ফায়ার) সূর্যগ্রহণ দেখতে পাবে।


Antumbraর সীমার বাইরেই কিন্তু উপচ্ছায়া এলাকা/সীমা।তাই,

Antumbraর সীমা পেরিয়ে ডানে বামে  অগ্রসর হলে আপনি বলয়গ্রাস সূর্যকে আর বলয়রূপে দেখতে পারবেন না।তখন যেহেতু উপচ্ছায়া অঞ্চলে এসে পড়েছেন সেহেতু আংশিকগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখতে পারবেন।চমৎকার না?


এ কারণেই দেখা যায় একই সূর্যকে পৃথিবীর কোনো অঞ্চলের কেউ বলয়গ্রাস আবার কেউ পূর্ণগ্রাস বা কেউ আংশিক গ্রাস সূর্যগ্রহণ রূপে দেখে থাকেন।

গতবছর আমরা দেখলাম আংশিকগ্রাস সূর্যগ্রহণ কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে তা দেখা গেলো বলয়গ্রাস রূপে।তারমানে বাংলাদেশসহ আরো যেসব দেশে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা গেছে তারা চাঁদের বাধার কারণে সৃষ্ট উপচ্ছায়া অঞ্চলে ছিলো আর মধ্যপ্রাচ্যে 

Antumbra অঞ্চলে ছিলো।আর তখন প্রচ্ছায়া সৃষ্টি হয়েছিলো ভূপৃষ্ঠের উপরে মহাশূন্যে।ফলে সেখানে কেউ অবস্থান না করায় সারাবিশ্ব শুধু বলয়গ্রাস এবং আংশিক গ্রাস দেখেছে।পূর্ণগ্রাস দেখেনি কারণ পূর্ণগ্রাস দেখতে হলে প্রচ্ছায়া অঞ্চলের মাঝে থাকতে হয়।এখন প্রচ্ছায়াই যদি পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের উপরিতলে গঠিত না হয় তবে কীভাবে আপনি পূর্ণগ্রাস দেখবেন।যদি পূর্ণগ্রাস তখন দেখতে চান তবে আপনি মহাকাশের যে অঞ্চলে বা যেখানে প্রচ্ছায়া সৃষ্টি হয়েছে সেখানে নভোযান দিয়ে চলে যেতে পারেন।তাহলেই পূর্ণগ্রাস তখন দেখতে পারবেন।





 ৩৯। কেন আন্টামব্রার দিকে এগিয়ে গেলে বলয়গ্রাস দেখা যায়?


যতই Antrambra র দিকে অগ্রসর হবেন ততই গ্রহণকারী বস্তুু থেকে দূরত্ব বাড়বে

ফলে গ্রহণকারী বস্তু মানে যে গ্রহণ করতেছে(চাঁদকে)তাকে আগের চেয়ে ছোট মনে হবে।বাট সূর্য ত অনেক বড়।ফলে চাঁদের পক্ষে সূর্যকে ঢেকে দেওয়া  ধীরে ধীরে আগের চেয়ে কঠিন হয়ে পড়বে।কারণ চাঁদকে তখন আগের চেয়ে ছোট মনে হবে।কারণ চাঁদ তখন পৃৃথিবী থেকে আগের চেয়ে,বেশি দূরে,বা পৃৃথিবী চাঁদ থেকে আগের চেয়ে বেশি  দূরে হয়ে গেছে।

কখন Antumbra ভূপৃষ্ঠে গঠিত হয়?

চাঁদ যখন তুলনামূলক  দূরে কিন্তু পূর্ণগ্রাসের মত বেশ সরলরেখায় এবং সূর্যের সাথে  সমতলে থাকে তখন 

Umbra ভূপৃষ্ঠে পতিত হয়না।ভূপৃষ্ঠ ছাড়িয়ে উপরে  মহাকাশে গঠিত হয়।

Umbra যদি পৃথিবীর পৃষ্ঠে না গঠিত হয়ে পূর্বেই মানে ভূপৃষ্ঠের উপরে  গঠিত হয় তবে পৃথিবীতে Antumbra এর ছায়া গঠিত হব।



৪০। কেন একেকসময় একেক গ্রহণ?


১।যখন আলোক উৎসের চেয়ে প্রতিফলক বস্তু ছোট হয় তখন প্রচ্ছায়া উপচ্ছায়ার চেয়ে খুব ছোট হয়।

দূরত্ব যত হ্রাস পায় কোনো বস্তুকে তত বড় দেখায় 

২।আর যদি আলোক উৎস এগিয়ে আসে/দূরত্ব হ্রাস পায় (মানে বড় হয়) মানে যদি আলোক উৎস এবং প্রতিফলক উৎসের মাঝে দূরত্ব হ্রাস পায় তখন প্রচ্ছায়া আরো ছোট হতে থাকে এবং উপচ্ছায়া বড় হতে থাকে।

৩।

আর দূরত্ব বৃদ্ধি পেলে প্রচ্ছায়া বড় হতে থাকে,উপচ্ছায়া ছোট হতে থাকে।

৪।

d ব্যস্তানুপাতিক প্রচ্ছায়া

d সমানুপাতিক উপচ্ছায়া।


৫।আলোক উৎসকে কাছে এনে বা প্রতিফলক পৃষ্ঠকে কাছে, দূরে এনেও প্রচ্ছায়া উপচ্ছায়া কে ছোট বড় করা যায়।

পৃথিবী যত সূর্যের /চাঁদের থেকে দূরে চলে যায় বা চাঁদ যত দূরে চলে যায় পৃথিবী থেকে তত চাঁদকে ছোট দেখায়। ফলে চাঁদের দ্বারা সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দেওয়া সম্ভব হয়না ফলে বলয়গ্রাস দেখা যায় বা চাঁদ সূর্যের মাঝে ডুবে যায়। ফলে চারপাশে আংটি দেখা যায়।

প্রতিফলক পৃষ্ঠ কাছে আনলে প্রচ্ছায়া বড় হয়,,উপচ্ছায় ছোট হয়।

আর প্রতিফলক পৃষ্ঠ দূরে আনলে প্রচ্ছায়া ছোট হয়,,উপচ্ছায় বড় হয়।

তারমানে চাঁদ বেশি ছোট হলে  বা বেশি দূরে থাকলে বলয়গ্রাস হয়।

যত কাছে আসবে তত বেশি পূর্ণগ্রাস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।



৪১। কুসংস্কার

গ্রহণ নিয়ে সমাজে অনেক ধরনের কুসংস্কার আছে। ঐ সময়ে খেতে নেই, তৈরি করা খাবার ফেলে দিতে হয় ইত্যাদি। গ্রহণ দেখাও অনেকের কাছে নিষেধ। সূর্যকে গিলে ফেলা রাহুর ভয়ে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে বলে জ্যোতিষীরা দাবী করেন। কিন্তু আজকের দিনে আমরা যখন পরিষ্কার বুঝতে পারি পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যে চাঁদ এসে যাওয়ার ফলে গ্রহণ হচ্ছে, তাই নতুন জীবাণুর জন্ম, রশ্মির বেশি প্রভাব ইত্যাদি প্রশ্ন অবান্তর।


সূর্যগ্রহণ নিয়ে কিছু কুসংস্কার

আমাদের দেশে সূর্যগ্রহণের সময় নিয়ে বেশ কিছু কুসংস্কার প্রচলিত আছে। দূর্ভাগ্যজনক ভাবে; এই একুশ শতকে এসেও মানুষ এই ভ্রান্ত ধারণায় বিশ্বাস করে এবং এই সব কুসংস্কারকে খুবই ভক্তি সহকারে পালন করে। চলুন সেসব কুসংস্কারের ফিরিস্তি শুনা যাক এবং এসব আসলেই সত্য কিনা তাও জানা যাক।


১।

রান্না করা ও খাবার গ্রহণ না করাঃ

অনেকেই মনে করে সূর্য গ্রহনের সময় খাবার গ্রহণ করা উচিৎ নয়! খাবার গ্রহণ তো দূর; অনেকের মনে রান্না-বান্না করাও উচিৎ নয়। এসবের কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি কিংবা সমর্থন নেই। 


২।

গর্ভবতী মায়েদের সূর্যের আলো পৌছায় এমন জায়গায় যাওয়াঃ

প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, সূর্যগ্রহণের সময় গর্ভবতী নারীরা ঘরের বাইরে বের হলে গর্ভের সন্তানের শরীরে বিশেষ ধরণের জন্মদাগ থাকতে পারে। এমনকি সন্তানের হৃৎপিন্ডে ছিদ্র থাকা বা বিকলাঙ্গতা নিয়েও সন্তান জন্ম নিতে পারে।


তাই বলা হয় সূর্যগ্রহণের সময়ে গর্ভবতী নারীদের ঘরের বাইরে যাওয়া ঠিক হবে না।


এই ধারণাও বৈজ্ঞানিকভাবে ভিত্তিহীন

এই একটা কুসংস্কার যা বাংলাদেশের প্রায় গ্রামীণ অঞ্চলের প্রায় সকল গর্ভবতীই মেনে চলে। 

৩।

সূর্যগ্রহণের সময় যাতায়ত না করাঃ

এই আরেকটি কুসংস্কার আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে যে সূর্যগ্রহণের সময় কোথাও যাতায়ত না করা উচিত।

কারণ হিসাবে উল্লেখা করা হয় তখন সূর্য থেকে ক্ষতিকর রশ্মি বিকিরিত হয়

। প্রকৃতপক্ষে সূর্যগ্রহণের সময় আলাদা করে অতিরিক্ত কোনো রশ্মি বের হয় না।

সাধারণ অবস্থায় সূর্যের রশ্মি গায়ে লাগলে যতটা ক্ষতি হতো, সূর্যগ্রহণের সময় তার চেয়ে বেশি ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। কাজেই সূর্যগ্রহণের সময় যে আলাদাভাবে অতিরিক্ত ক্ষতি হবে, এই ধারণার কোনো ভিত্তি নেই


৪. গ্রহণের পর গোসল করা


সূর্যগ্রহণের ফলে তথাকথিত যেসব ক্ষতিকর রশ্মি শরীরের সংষ্পর্শে আসে, সেসব রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করতে গ্রহণের শেষে গোসল করার উপদেশ দেয়া হয়ে থাকে কিছু ক্ষেত্রে।


এই ধারণাটিও সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক।



৫।

সূর্যের দিকে তাকানো নিয়ে বাহুল্যতা:

সূর্যগ্রহণের দিন সূর্যের দিকে তাকানো নিয়ে আলাদা করে বিপদের ভয় দেখানো হয়।

তবে প্রকৃত কথা হলো শুধু সূর্যগ্রহণের দিনই যে সূর্যের দিকে খালি চোখে তাকানো উচিত নয় - এমনটা নয়।কখনোই উচিত নয়।




সূর্যগ্রহণের দিন মানুষ সূর্যের দিকে খালি চোখে তাকায়, কারণ সেদিন সূর্যের প্রখরতা অন্যান্য সময়ের চেয়ে অনেক কম থাকে। তাই মানুষের অনেকক্ষণ যাবত তাকিয়ে থাকার সম্ভাবনা ও সুযোগ থাকে - যেটি ক্ষতির কারণ হতে পারে।


যে কোনো সাধারণ দিনে মানুষ সূর্যের দিকে কিছুক্ষণ তাকালেও চোখের ক্ষতি হবে। পার্থক্যটা হলো, সাধারণ দিনে মানুষ তাকায় না, সূর্যগ্রহণের সময় মানুষ বেশি বেশি তাকায়, তাই বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়।


সূর্যগ্রহণ একটি প্রাকৃতিক ঘটনা। ঝড়, বৃষ্টি, শীত, প্রচণ্ড রোধের মতই একটি নৈমিত্তিক ঘটনা। এর সাথে কোন রকম ক্ষতিকর কিংবা উপকারী বিষয়ের সম্পর্ক নেই।




৪২। সূর্য ও চাঁদ থেকে গ্রহণগুলো কেমন মনে হবে?


সূর্য ও চাঁদ থেকে গ্রহণগুলো কেমন মনে হবে?


চন্দ্রগ্রহণের সময় যদি কেউ চাঁদে বাস করে চাঁদ থেকে  পৃথিবীর দিকে তাকায় তখন সে দেখবে সূর্যকে পৃথিবী  ডেকে দিচ্ছে মানে পৃথিবীর দ্বারা সূর্যের গ্রহণ হচ্ছে।

তবে পৃথিবী ও সূর্যতে কল্পিত বসবাসকারী চন্দ্রগ্রহণই দেখে থাকবে।


আর সূর্যকে ডেকে দেওয়ায় পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপর পড়বে যাকে চন্দ্রের অধিবাসীরা  সূর্যগ্রহণ বলবে।

মানে আমাদের পৃথিবীর ও সূর্যের কল্পিত অধিবাসীর কাছে যেটা চন্দ্রগ্রহণ সেটাই চাঁদের কল্পিত অধিবাসীদের কাছে সূর্যগ্রহণ।


আবার আমাদের কাছে যেটা সূর্যগ্রহণ সেটা চাঁদের কাছে চাঁদ দ্বারা পৃথিবীকে গ্রহণ বা পৃথিবী গ্রহণ।এবং সূর্যের অধিবাসীদের কাছেও মনে হবে তা পৃথিবী গ্রহণ।

মানে আমাদের কাছে যা সূর্যগ্রহণ তা চাঁদ এবং সূর্যের অধিবাসীদের (কল্পিত) কাছে পৃথিবী গ্রহণ।





চলবে….


(এডিট করতে হবে কিছু)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Top Post Ad

Below Post Ad

advertise